দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও আস্থার সম্পর্ক থাকাই আকাঙ্ক্ষিত। তবে কখনো কখনো বদনজরের প্রভাব ছাড়াই সংসারে অশান্তি, দূরত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আবার অনেক সময় বদনজরের কারণেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হতে পারে, সম্পর্কের অবনতি হতে পারে।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, বদনজর সত্য। (সহিহ বুখারি) অর্থাৎ বদনজরের কুপ্রভাব পড়ে এটা অমূলক বা ভিত্তিহীন কোনো ধারণা নয়, এটা সত্য। আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা বদ নজরের খারাপ প্রভাব বাঁচতে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা কর, কারণ তা সত্য। (সুনানে ইবনে মাজা)
বদনজর আমলে নেওয়ার নজির কোরআনে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহর নবি ইয়াকুব (আ.) তার ছেলেদের একসাথে মিশর শহরে না প্রবেশ করে আলাদা আলাদাভাবে প্রবেশ করতে বলেছিলেন; যেন তারা মানুষের হিংসা ও বদনজরের শিকার না হন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, সে বলল, আমার ছেলেরা, তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর। আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিপরীতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হুকুম একমাত্র আল্লাহরই। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করছি এবং তাঁরই ওপর যেন সবাই ভরসা করে।’ আর যখন তারা প্রবেশ করল, যেভাবে তাদের পিতা তাদের আদেশ করেছিল, তা আল্লাহর হুকুমের বিপরীতে তাদের কোনো উপকারে আসেনি, তবে তা ছিল ইয়াকুবের মনের একটি ইচ্ছা, যা সে ব্যক্ত করেছিল। আর সে ছিল জ্ঞানী, কারণ আমি তাকে শিখিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (সুরা ইউসুফ: ৬৭-৬৮)
রাসুলুল্লাহর (সা.) কিছু হাদিস থেকে বোঝা যায়, বদনজরের কারণে মানুষের বড় ক্ষতি এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনে জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বদনজর মানুষকে কবরে এবং উটকে রান্নার পাতিলে পৌঁছে দেয়। (হুলয়াতুল আউলিয়া লি আবি নুআইম, সহিহুল জামে)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও নির্ধারণের পর আমার উম্মতের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হবে বদনজরের কারণে। (মুসনাদুত-তায়ালিসি, সহিহুল জামে)
সুতরাং বদনজরের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব ও সংসারে অশান্তি তৈরি হওয়াও সম্ভব। তাই বদনজর থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে হবে। বদনজর লেগে গেলে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, কোরআন হাদিসে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
১. সকালে ও সন্ধ্যায় সাতবার করে নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করুন:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিকলিমাতিল্লাহিত তিয়াম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বানি ওয়া হাম্মাতি ওয়া মিন কুল্লি আইনিন ল্লাম্মাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাত দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি। (সহিহ বুখারি)
২. সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে দিন।
৩. সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠ করুন:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَوَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামা ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যার নামের সাথে পৃথিবীর ও আকাশের কোনো জিনিস ক্ষতিসাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা। (সুনান আবু দাউদ, সুনান তিরমিজি)
৪. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্কের কথা শুনলে বা দেখলে সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ বলুন। তাহলে আপনার নজরের ক্ষতিকর অন্যের সংসারে পড়বে না।
৫. দাম্পত্য সম্পর্কের সুন্দর মুহূর্তগুলো বা ব্যক্তিগত সুখের বিষয়গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন।
ইসলাম ডেস্ক 





























