কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বাজারে দুই শতক জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দখলে থাকা জমিকে ‘বেদখল’ দেখিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া এবং সেই প্রতিবেদনের সুযোগে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শাহাদাত হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা সফিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রফিক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করেন, ২০০৩ সালে ১৮৫৮ ও ১৮৫৯ নম্বর দলিলমূলে দুই শতক জমি ক্রয় করে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
তার অভিযোগ, জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে সফিয়ার রহমান ও তার সহযোগীরা আদালতে বিচারাধীন বিরোধের সুযোগ নেন। মামলার তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত তহশিলদার শাহাদাত হোসেন সরেজমিনে প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করে জমিটিকে তার দখলে নেই এবং সেখানে বিবাদীপক্ষের বসতবাড়ি রয়েছে—এমন প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের পরই জোরপূর্বক জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রফিক বলেন, “আমার নামে বৈধ দলিল, নামজারি ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধের সব কাগজপত্র রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি জমিটি ভোগদখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। সেখানে সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমও চলছে। তারপরও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে জোরপূর্বক আমার জমি দখল করা হয়েছে। এখন আমি কার কাছে বিচার চাইব? আমি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা বেনেজীর, মোন্তাজ আলী ও আশরাফুল বলেন, প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে রফিককে ওই জমি ভোগদখল করতে দেখেছেন। সম্প্রতি সফিয়ার রহমান ও তার ছেলেরা এসে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ শুরু করেন বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, “অনেক বছর ধরে এই জমিতে রফিকের ব্যবসা ও ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। এরপরও কীভাবে প্রতিবেদনে দখল নেই দেখানো হলো, সেটাই প্রশ্ন।”
প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত সফিয়ার রহমান ও তার ছেলের কাছে নামজারি এবং মালিকানার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমার সহকারী ভুল করে আমার নামে রিপোর্ট দিয়েছে। আমি সরেজমিনে দেখতে যাইনি।” নামজারি ও ব্যাংকের স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে দখল নেই কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। ইউএনও বা এসিল্যান্ডকে বলেন, যা করার তারা করবে।”
এদিকে অভিযুক্ত সফিয়ার রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগী আব্দুর রফিক নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, “আমি একটি সভার কাজে কুড়িগ্রামে এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
মাজহারুল ইসলাম ,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : 
































