রৌমারী উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ঠিকঠাক না থাকলেও দে-ধারছে অবৈধভাবে বছরের পর বছর তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন টেস্টের অতিরিক্ত মূল্য নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী রাজিবপুর উপজেলায় মোট ১৫টি বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এতে অভিযোগ রয়েছে, অনেকদিন যাবত রৌমারীতে সালেহা, সিটি, সেবা ও আব্দুল আজিজ বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো লাইসেন্স ছাড়াই দি-ধারছে চলছে। অবৈধভাবে অনিয়মের বেড়াজালে এই সকল বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলো পেশীজোর ও রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের ভুমিকা রহস্যজনক।
অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসকরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণে সরকারি হাসপাতালে আসা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিতে এলেই তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় টেস্টের ফাঁদে ফেলা হয়। যার ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এলেও তাদেরকে অহেতুক বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা করাতে হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন টেস্টের অতিরিক্ত মুল্যের খপ্পরে পড়তে হয় সেবা নিতে আসা রোগিদের। আরও জানা গেছে, হাসপাতালের কিছু ডাক্তারের ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে মালিকানা শেয়ারও রয়েছে।
অপরদিকে কোন বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে ডাক্তার দ্বারা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে। তখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর আবার যখন প্রশাসনিক তৎপরতা হারিয়ে যায়,অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় তাদের অবৈধ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই নির্ধারিত যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসা প্রদানের উপযুক্ত পরিবেশ। এদিকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলো সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আসে পাসে হওয়ায়, ২৪ ঘণ্টাই ওই সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দালালদের দ্বারা ঘিরে থাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা ফরিদা পারভিন, জায়দা বেগম, আহাদ আলী, সুরমান ও সামছুআরা সুমিসহ অনেকেই বলেন, সরকারি হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে, চিকিৎসকগন সাধারণ বিষয় নিয়েও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে টেস্ট করার কথা বলেন। তাদের কথা মতো হাসপাতালের ডাক্তার সাধারণ একটি টেস্ট করতে দিয়েছে। যে টেস্টে যেমন আলতা¯েœাগ্রাম, ইসিজি, সিবিসি, এএলটি-এসজিপিটি, সিআরপি-সি রেকটিভ, ভিটামিন বি-২ ভিটামিন-ডি-৩ লেভেল, ভিটামিন ডি-৩, এইচবিআইসি, উইডাল টেষ্টসহ বিভিন্ন টেস্ট গুলো অতিরিক্ত টাকা নিয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ্যাসোসিয়েশন কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর ঠিকঠিক কাগজ পাতি নেই, সেই প্রতিষ্ঠান গুলো চালানো ঠিক হবে না।
উপজেলা পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। তবে বিষয় গুলি নিয়ে প্রশাসনসহ পরিদর্শন করে দেখা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি রিসিব করেন নি।
ব্রেকিং
প্রশাসন রহস্যজনক নীরব, রৌমারীতে যত্রতত্র অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার
-
মাজহারুল ইসলাম ,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : - আপডেট সময় ০৮:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
- 8
জনপ্রিয় সংবাদ


























