ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

দলিল রেজিস্ট্রেশনে এলো বড় পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালাল ও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ ভূমি মালিকদের ভোগান্তি কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি এখন থেকে জমির ধরণ ও দলিলের শ্রেণীভেদে স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা হবে। সেই ফি কাঠামোর তালিকা দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফলে কোনো জমির দলিল করতে কত টাকা প্রয়োজন, স্ট্যাম্প খরচ, রেজিস্ট্রেশন ফি, আইটি সার্ভিস চার্জ—সব মিলিয়ে মোট ব্যয় কত হবে, তা নাগরিকরা আগেই জেনে নিতে পারবেন।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—সাব-রেজিস্টারি অফিসে গেলে ভূমি মালিকদের দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের উপর নির্ভর করতে হতো। তারা গণনাহীন ‘হিসাব’ দেখিয়ে পূর্ব নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নিত। কেউ প্রতিরোধ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হতো। এ ঘটনার লাগাম টানতেই সরকার দলিল লেখক লাইসেন্স বিধিমালা, ২০১৪ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এখন থেকে শুধুমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরা অফিসে কাজ করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।
এছাড়া, যেসব ভূমি মালিক ফি গণনায় বিভ্রান্ত হন, তাদের জন্য অনলাইনে “দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর” চালু করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ক্যালকুলেটর অ্যাপ ডাউনলোড করে জমির শ্রেণী, অবস্থান, পরিমাণ ও মৌজার তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত খরচ জানিয়ে দেবে।

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আনরেজিস্টার্ড দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা যাবে না, রেকর্ড সংশোধনও করা যাবে না—এই বিষয়েও সরকার ভূমি মালিকদের সচেতন করছে।
যদি কোনও দলিল লেখক বা অফিস সংশ্লিষ্ট কেউ বাড়তি টাকা দাবি করে বা প্রতারণা করে, ভূমি মালিকরা সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের নম্বরে কল করেও অভিযোগ জানানো সম্ভব।

সরকার মনে করছে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো দালালচক্রের আধিপত্য কমে আসবে, রেজিস্ট্রেশন খরচে স্বচ্ছতা তৈরি হবে এবং ভূমি মালিকেরা প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। নতুন নিয়ম ও ফি কাঠামো বাস্তবায়ন হলে ভূমি সেক্টরে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার, মহালছড়িতে ৫০০ পরিবার পেল সহায়তা

দলিল রেজিস্ট্রেশনে এলো বড় পরিবর্তন

আপডেট সময় ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সারা দেশে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালাল ও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ ভূমি মালিকদের ভোগান্তি কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি এখন থেকে জমির ধরণ ও দলিলের শ্রেণীভেদে স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা হবে। সেই ফি কাঠামোর তালিকা দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফলে কোনো জমির দলিল করতে কত টাকা প্রয়োজন, স্ট্যাম্প খরচ, রেজিস্ট্রেশন ফি, আইটি সার্ভিস চার্জ—সব মিলিয়ে মোট ব্যয় কত হবে, তা নাগরিকরা আগেই জেনে নিতে পারবেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—সাব-রেজিস্টারি অফিসে গেলে ভূমি মালিকদের দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের উপর নির্ভর করতে হতো। তারা গণনাহীন ‘হিসাব’ দেখিয়ে পূর্ব নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নিত। কেউ প্রতিরোধ করলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হতো। এ ঘটনার লাগাম টানতেই সরকার দলিল লেখক লাইসেন্স বিধিমালা, ২০১৪ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এখন থেকে শুধুমাত্র অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরা অফিসে কাজ করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।
এছাড়া, যেসব ভূমি মালিক ফি গণনায় বিভ্রান্ত হন, তাদের জন্য অনলাইনে “দলিল রেজিস্ট্রেশন ক্যালকুলেটর” চালু করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ক্যালকুলেটর অ্যাপ ডাউনলোড করে জমির শ্রেণী, অবস্থান, পরিমাণ ও মৌজার তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত খরচ জানিয়ে দেবে।

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। আনরেজিস্টার্ড দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা যাবে না, রেকর্ড সংশোধনও করা যাবে না—এই বিষয়েও সরকার ভূমি মালিকদের সচেতন করছে।
যদি কোনও দলিল লেখক বা অফিস সংশ্লিষ্ট কেউ বাড়তি টাকা দাবি করে বা প্রতারণা করে, ভূমি মালিকরা সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারবেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের নম্বরে কল করেও অভিযোগ জানানো সম্ভব।

সরকার মনে করছে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো দালালচক্রের আধিপত্য কমে আসবে, রেজিস্ট্রেশন খরচে স্বচ্ছতা তৈরি হবে এবং ভূমি মালিকেরা প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। নতুন নিয়ম ও ফি কাঠামো বাস্তবায়ন হলে ভূমি সেক্টরে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন