কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ জনকে পরীক্ষা শুরু আগে এবং ৪ জনকে পরীক্ষার সময় ও ১জনকে পরীক্ষা শেষে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরুর আগে নাগেশ্বরীর কাজী মার্কেটের পিছনের একটি বাড়ি থেকে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। পরে আরও পাঁচজনকে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ পাড়ার মৃত্যু বাহাদুর আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম, রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের আহাদুজ্জামানের ছেলে শাহজামাল, কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেম ছেলে বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের কন্যা জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের বোয়ালভির গ্রামের মৃত নাজির হোসেন সিদ্দিকির ছেলে আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেক মৃধার ছেলে হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের ইদ্রিস মোড়লের কন্যা চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন, চরদামাল গ্রামের ময়নাল হকের ছেলে আনেয়ার হেসেন। অপর একজনের নাম এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বলেছে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস,পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, আটকের বিষয়টি জেনেছি। আটককৃত থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় বলেন, শুক্রবার বিকেল তিনটায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
অনলাইন ডেস্ক : 



























