ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

ইসলামের দাওয়াত না পৌঁছালে পরকালে কী হবে? ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তর

  • ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • 0

সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বা গভীর অরণ্যে এমন কিছু জনগোষ্ঠী আছে যাদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছায়নি এবং আধুনিক সভ্যতার সাথেও যাদের যোগাযোগ নেই, পরকালে তাদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী হবে?

উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন:
ওলামায়ে কেরাম এ সমস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ফতোয়া দিয়েছেন। সেটি হলো যদি কোনো মানুষ এরকম কোনো জায়গায় থাকে, তাদের কাছে কোনো নবী-রাসুলের দাওয়াত যায় নাই, কোনো দ্বীনের দাওয়াত যায় নাই, ইসলামের দাওয়াত যায় নাই, কোরআনের দাওয়াত যায় নাই, তাহলে এই ব্যক্তিদের কেয়ামতের ময়দানে কোনো শরিয়ত সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদ হবে না। সে নামাজ পড়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতে হবে না। সে অন্য হালাল-হারাম মেইনটেইন করেছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরও তাকে দিতে হবে না।

তাকে শুধুমাত্র বাই নেচার বা স্বভাবগতভাবে যে জিনিসটা তার মধ্যে থাকা দরকার, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সেটা কী? তাকে তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেছে কি না? এইটুকু বিশ্বাসের জন্য কোনো নবী-রাসূলের দাওয়াত দরকার নাই। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে সে আছে, বসবাস করছে, সব দেখছে—এটাই আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে ইমান আনার জন্য যথেষ্ট। এটুকু তার মধ্যে আছে কি না? এই প্রশ্ন শুধু তাকে করা হবে।

সে কারও প্রতি অবিচার করেছে কি না, জুলুম করেছে কি না যেটা ফিতরাতি বিষয়, প্রাকৃতিক বিষয় এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে কি না, এ প্রশ্ন তাকে করা হবে না। কারণ সে সম্পর্কে নির্দেশ তার কাছে পৌঁছায়নি। আর আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না।

দুনিয়ার মানুষ এখন কত সূক্ষ্মভাবে বিচার করতে পারে! এখন মানুষের কর্মকাণ্ডকে কত সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা যায়, নিরূপণ করা যায়, মনিটর করা যায়। এআই ক্যামেরার এই যুগে কত কদম সে হেঁটেছে, কত জোরে হেঁটেছে এটা পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়।

তাহলে এই টেকনোলজির আবিষ্কারক মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেয়ামতের ময়দানে আরও কত সূক্ষ্মভাবে বিচার করবেন এবং কীভাবে সবার প্রতি ন্যায়বিচার করবেন, সেটা হয়তো আমাদের চিন্তা-কল্পনারও বাইরে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সবসময় নিজের বিবেক-বিচার-বুদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করতে যাওয়াটাই হলো সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

ইসলামের দাওয়াত না পৌঁছালে পরকালে কী হবে? ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তর

ইসলামের দাওয়াত না পৌঁছালে পরকালে কী হবে? ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তর

আপডেট সময় ১২:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বা গভীর অরণ্যে এমন কিছু জনগোষ্ঠী আছে যাদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছায়নি এবং আধুনিক সভ্যতার সাথেও যাদের যোগাযোগ নেই, পরকালে তাদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী হবে?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন:
ওলামায়ে কেরাম এ সমস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ফতোয়া দিয়েছেন। সেটি হলো যদি কোনো মানুষ এরকম কোনো জায়গায় থাকে, তাদের কাছে কোনো নবী-রাসুলের দাওয়াত যায় নাই, কোনো দ্বীনের দাওয়াত যায় নাই, ইসলামের দাওয়াত যায় নাই, কোরআনের দাওয়াত যায় নাই, তাহলে এই ব্যক্তিদের কেয়ামতের ময়দানে কোনো শরিয়ত সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদ হবে না। সে নামাজ পড়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতে হবে না। সে অন্য হালাল-হারাম মেইনটেইন করেছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরও তাকে দিতে হবে না।

তাকে শুধুমাত্র বাই নেচার বা স্বভাবগতভাবে যে জিনিসটা তার মধ্যে থাকা দরকার, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সেটা কী? তাকে তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেছে কি না? এইটুকু বিশ্বাসের জন্য কোনো নবী-রাসূলের দাওয়াত দরকার নাই। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে সে আছে, বসবাস করছে, সব দেখছে—এটাই আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে ইমান আনার জন্য যথেষ্ট। এটুকু তার মধ্যে আছে কি না? এই প্রশ্ন শুধু তাকে করা হবে।

সে কারও প্রতি অবিচার করেছে কি না, জুলুম করেছে কি না যেটা ফিতরাতি বিষয়, প্রাকৃতিক বিষয় এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে কি না, এ প্রশ্ন তাকে করা হবে না। কারণ সে সম্পর্কে নির্দেশ তার কাছে পৌঁছায়নি। আর আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না।

দুনিয়ার মানুষ এখন কত সূক্ষ্মভাবে বিচার করতে পারে! এখন মানুষের কর্মকাণ্ডকে কত সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা যায়, নিরূপণ করা যায়, মনিটর করা যায়। এআই ক্যামেরার এই যুগে কত কদম সে হেঁটেছে, কত জোরে হেঁটেছে এটা পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়।

তাহলে এই টেকনোলজির আবিষ্কারক মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেয়ামতের ময়দানে আরও কত সূক্ষ্মভাবে বিচার করবেন এবং কীভাবে সবার প্রতি ন্যায়বিচার করবেন, সেটা হয়তো আমাদের চিন্তা-কল্পনারও বাইরে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সবসময় নিজের বিবেক-বিচার-বুদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করতে যাওয়াটাই হলো সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল