বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আমি একজন সেবক হয়ে কাজ চাই। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে আমি ছাত্র জীবনে ১৯৮৬ সাল থেকে যখন রাজনীতি করে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহন করে জয়লাভ করে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। এখন সে কাজের ধারাবাহিকতায় বজায় রাখতে চাই।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়াবাড়ী শহীদ আবুল কাশেম হাইস্কুল মাঠে, বড়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।
বড়াবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি নুর ইসলাম নুরু এর সভাপতিত্বে বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লাইলা হাবীব। বড়াবাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়য়ের (ভারঃ) অধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ন সম্পাদক এবি এম ফারুক সিদ্দিকীর সঞ্চালনে বক্তব্য রাখেন,বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল হামিদ বাবু,অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন সরকার,জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক মমিনুল হক,পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ার ইয়াছিন মোল্লা প্রমুখ।
তিনি বলেন, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায় ২০০১ সালে আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে একটা ছোট্ট মন্ত্রী উপহার দিয়েছিল। সেই করুনায় এই এলাকায় আমি ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আজকে প্রায় ৩৯ বছর থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। সেই পথ চলা পথে বিগতদিনে অনেক সাথী বন্ধু আমার এলাকা থেকে হারিয়ে গেছে। আর যারা বয়সে দাদা ছিলেন তারা মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকেই তার ছেলেরা এখন আমার সঙ্গে রাজনীতি তাদের ছেলেরা এখন আমার সঙ্গে রাজনীতি করে। আমি যখন গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় যাই বাবা হয়তো বাচ্চাটাকে কোলে নিয়েই আমাকে দেখায় যখন বলে দুলুভাই বলে সমন্ধোন করে সেটাই হল আমার বড় স্বার্থকতা। আমি এমপি হবো না আরো বড় জায়গায় যাব সেটিও তো অন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আপনারা আমাকে গ্রহণ করেছেন ছেন এটাই হল আমার বড় পাওয়া।
বিগতদিনে ফ্যাসবাদী আওয়ামীলীগের বাংলাদেশের এমন কোন নেতা নাই যে তাদের নামে এমন কোন মামলা ছিল না তারা শান্তিতে থাকতে পারছে। প্রতিবাদী শাসন আমলে আমাদের অনেক নেতাকর্মীরা খুন ও গুম হয়েছে। লাখ,লাখ নেতাকর্মির নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে তারা বাড়িতে থাকতে পারে নাই যা আমাকেও বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানী করেছে। সে মামলায় আমাকে আপনাদের ব্যাপক আন্দোলন ও প্রতিরোধের মুখে সেটি সম্ভব হয়নি যার জন্য আজকে লালমনিহাট জেলাকে বাংলাদেশের মানুষ চিনতে পারে।
বিগত ১৭টি বছর আপনারা আমার এই জালেম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং এলাকার লোকেরা বলত হাসিনার মনে পতন হবে না। আমি তাদেরকে সাহস,শক্তি জোগাইতাম। সে আন্দোলনে আমার সাহসে কোনো ঘাটতি হয় না আমি পিছিয়ে পড়ি নাই সরকারের পতন হবে আর বলতাম যুগে,যুগে নমরুদ ফেরাউন পৃথিবী বিখ্যাত স্বৈরাচার ছিল তাদের ধ্বংস হয়েছে, হিটলার মুসলিমের ধ্বংস হয়েছে শেখ হাসিনারা ধ্বংস হবে। অনেকে হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করে নাই। আজকে আল্লাহ আমার সেই কথাটা কবুল করেছে। আজকে দেখেন সেই স্বৈরচার হাসিনার পতন হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। আওয়ামীলীগের আমলে এই জেলায় কোন কাজই হয়নি যোগাযোগ হয়নি,বিমানবন্দর চালু হয়নি,সর্বোপরি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের কোন শিল্পকারখানা করা হয়নি। কর্মহীন মানুষ দিনে দিনে মারা যাচ্ছে বিকল্প কর্মসংস্থান মানে আমাদেরকে শিল্প কারখানা করতে হবে আমাদের এই অঞ্চল পশ্চাত কারনে গাজীপুরে যাচ্ছে কি কষ্ট কি দুঃখ নিয়ে ওরা কাজ করে। এই এলাকায় যদি কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠত তাহলে তাদের জীবনে এত কষ্ট হতনা। তাই আমাদেরকে নতুন হাসপাতাল করতে হবে তাকে আধুনিক করতে হবে মানুষের যৌন নিরাপত্তা দিতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে ডাল ভাত খেয়ে বাড়িতে শান্তি নিয়ে ঘুমাতে পারে আমরা যেন ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করি না আমরা মানুষ সকল ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আমরা এখানে বসবাস করতে চাই। সে যেন নিরাপত্তা দিতে হবে আমাদেরকে এই কাজগুলো করতে হবে আমাদের আমাদের এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল যার কারণে সরকারি কোন বড় বড় চাকরির প্রতিযোগিতা আমাদের অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা কম্পিটিশনে পারে না তার ব্যবস্থা করতে হবে। জানিনা আমরা কতটুকু করতে পারব নিশ্চয়ই আমি ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে একটা ছোট্ট মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিল পরিচিতি বেড়েছে। আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ জনাব তারেক রহমান ইনশাল্লাহ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে সে কারণেই আমি আশাবাদী। আপনাদেরকে সাথে নিয়ে জাগো বাহে তিস্তা আন্দোলনে বাংলাদেশ নয় বিশ্বকে কাঁপিয়েছি আমি। সারা বিশ্ব এখন লালমনি হাতের এই তিস্তা জাগো ভয়ানক আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোটা রংপুরের পাঁচটি জেলার ২ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে ইনশাল্লাহ যতদিন আন্দোলনের ডাক দিব সবাই সেখানে থাকতে হবে। সর্বোপরি আপনাদেরকে যে ভালোবাসা দিয়েছি সেই ভালোবাসার প্রতিদান আপনাদের কাছ থেকর আমি পেয়েছি সে ভালোবাসার কোন কিছুর বিনিময়েও পাওয়া যায় না। আমি মনে করি আপনারা এই ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন আগামী নির্বাচনে এবং মার্কাটা কি হবে ধানের শীষ। আপনারা সেই ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। অপরদিকে অন্য মার্কার কোন খবর নাই তারা ভেস্তে গেছে লাঙ্গল চলে গেছে এখন মানুষ পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর দখল করছে। নৌকা ডুবে গেছে মানুষের নাই।এখন মানুষ লঞ্চ,স্টিমার ব্যবহার করে। আর ধানের শীষ প্রত্যকটি মানুষের ঘরে,ঘরে ছড়িয়ে আছে এবং এদেশের কোটি কোটি মানুষের একটি জনপ্রিয় মার্কা। বিগত নির্বাচন নানান ষড়যন্ত্রের কারণে আমরা জিততে পারি নাই এবার হবে ইনশাল্লাহ শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ মুখরিত ভাবে আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন পাশাপাশি প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে উৎসাহ আনন্দের মধ্যে বিপুল ভোটে আমাকে জয়লাভ করবেন। আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই তাহলে আলোকিত করতে চাই। বিগত দিনে যদি আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে না দেওয়া হত তাহলে লালমনিহাটকে জীবনের সোনালী অধ্যায় চেহারা পরিবর্তন হয়ে যেত।
পরিশেষে তিনি আগামী ১ তারিখ পহেলা ডিসেম্বর লালমনিরহাট বিশাল শোডাইন করা করা এবং স্বরনকালের সর্ববৃহৎ শোডাউন করা হবে যাতর দেখতে চাই সেই রের্কড যাতে কেউ ঙতে না পারে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
অনলাইন ডেস্ক : 



























