ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলাম সমর্থন করে? স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্ধতির বিধান

পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহতায়ালা মানুষের সৃষ্টির অসাধারণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পৃথিবীর উৎকৃষ্ট নেয়ামতের মধ্যে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখায়। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন— আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন— জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি। এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা। অথবা ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে কি?

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয়, আর ডাক্তার বলে এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে আপনি অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।

তার মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন— বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি) সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ হলেও রিজিকের ভয়ে বা সন্তান লালন-পালনের অক্ষমতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করাকে তিনি ইসলামে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।

জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল দিকগুলো হলো—

স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা (বন্ধ্যত্বকরণ) ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িক সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।

রিজিকের ভয় ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: ‘কী খাওয়াব’ কিংবা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব’—এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত।

আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।

বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় বিএসএফ, কঠোর অবস্থানে বিজিবি

জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলাম সমর্থন করে? স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্ধতির বিধান

আপডেট সময় ০৮:১৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহতায়ালা মানুষের সৃষ্টির অসাধারণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পৃথিবীর উৎকৃষ্ট নেয়ামতের মধ্যে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখায়। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন— আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন— জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি। এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা। অথবা ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে কি?

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয়, আর ডাক্তার বলে এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে আপনি অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।

তার মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন— বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি) সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ হলেও রিজিকের ভয়ে বা সন্তান লালন-পালনের অক্ষমতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করাকে তিনি ইসলামে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।

জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল দিকগুলো হলো—

স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা (বন্ধ্যত্বকরণ) ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িক সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।

রিজিকের ভয় ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: ‘কী খাওয়াব’ কিংবা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব’—এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত।

আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।