নীট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ হিসেবে অভিহিত করে জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি কোনো দলীয় রাজনীতির স্থান নয়, বরং এটি ‘জাতীয় স্বার্থের’ বিষয়। এ কারণে সব রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এনডিএ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে গভীর আস্থা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তরুণ সমাজের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে যাতে অন্যায় না হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে চালিত করা সহজ হলেও সঠিক পথ দেখানো কঠিন।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে বিরোধী দলগুলো। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ছাড়া তিনি সংসদে আলোচনা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার দাবি জানান।
বিরোধীদের এই আক্রমণ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সরকারি সূত্র। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু করেছেন। ঘটনার তদন্তে সিবিআই কাজ করছে। এ পর্যন্ত ১৩ জনেরও বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি করতেই বিরোধীরা আলোচনা বর্জন করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























