ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে ৬ বাংলাদেশির লাশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির লাশ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর নাগাদ বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে নিহতদের লাশ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর মধ্যে বেনাপোল দিয়ে পাঁচটি লাশ আসার কথা রয়েছে। অন্য একটি লাশ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে আসতে পারে। তবে নিহত রেবতী সরকারের লাশ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই তার সৎকার সম্পন্ন হবে।

লাশ দেশে আনার জন্য বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন ও বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়িতে করে কফিন বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিহতদের স্বজনেরাও উপস্থিত রয়েছেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে নিহতদের পাসপোর্ট পুলিশের কাছ থেকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন- শহরের আরুয়াপাড়া (মোহিনী মিল এলাকা) এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।

দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।

নিহত অন্য তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই জেলার রেবতী সরকার। সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। রেবতী সরকার চিকিৎসার জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

রেবতী সরকারের লাশ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হবে। তার এক স্বজন বলেন, এখান থেকে নিয়ে গিয়ে আমরা নিমতলা মহাশ্মশানে সৎকারটা শেষ করব। সেখানে আমাদের আত্মীয়-স্বজন আছেন। তারা বলছেন, তারাই সৎকারের ব্যবস্থা করবেন।

এর আগে দিনভর কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেন নিহতদের স্বজনেরা। তারা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। লাশ শনাক্ত করতে গিয়ে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। এক স্বজন বলেন, ‘লাশটা দেখে তো আমার ভালো লাগছে না। যে লাশটা ফুলে গেছে, আর জায়গায় জায়গায় মাংস নাই, চামড়া উঠে গেছে। চেনার মতোই… চেনার কষ্ট, চিনতেই অনেক কষ্ট। তারপরও আমি শনাক্ত করছি।’
অপর এক স্বজন ‘শিখা ইন’ হোটেলের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি যে পরিস্থিতি দেখেছি, এটা আসলে হোটেল বলা যাবে না, এটা কবরখানাই বলতে হবে।’

বেনাপোল প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল দিয়ে পাঁচটি লাশ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাভারের একজন এবং কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজন রয়েছেন। কলকাতা থেকে বেনাপোলে লাশ পৌঁছাতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সকালে কলকাতার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় লাশ কখন বেনাপোলে পৌঁছাবে, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে দুপুর নাগাদ পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান বলেন, লাশগুলো আজ দুপুর নাগাদ বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, কলকাতা থেকে নিহত বাংলাদেশিদের লাশ আজ সকালে আসার কথা থাকলেও প্রক্রিয়াগত কারণে দুপুর নাগাদ পৌঁছাতে পারে। লাশ গ্রহণ ও দেশে প্রবেশের জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের লাশ গ্রহণের জন্য সাংবাদিক নেতাসহ স্বজনেরা কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। লাশ দেশে পৌঁছানোর পর সেগুলো কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে দাফন করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট বুধবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক।
লাশ দেশে আসার খবরে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের লাশ দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাংলাদেশিদের লাশ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব কাজী নাহিদ

কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে ৬ বাংলাদেশির লাশ

আপডেট সময় ১২:১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির লাশ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর নাগাদ বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে নিহতদের লাশ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

এর মধ্যে বেনাপোল দিয়ে পাঁচটি লাশ আসার কথা রয়েছে। অন্য একটি লাশ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে আসতে পারে। তবে নিহত রেবতী সরকারের লাশ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই তার সৎকার সম্পন্ন হবে।

লাশ দেশে আনার জন্য বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন ও বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়িতে করে কফিন বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিহতদের স্বজনেরাও উপস্থিত রয়েছেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে নিহতদের পাসপোর্ট পুলিশের কাছ থেকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন- শহরের আরুয়াপাড়া (মোহিনী মিল এলাকা) এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।

দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।

নিহত অন্য তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই জেলার রেবতী সরকার। সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। রেবতী সরকার চিকিৎসার জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

রেবতী সরকারের লাশ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হবে। তার এক স্বজন বলেন, এখান থেকে নিয়ে গিয়ে আমরা নিমতলা মহাশ্মশানে সৎকারটা শেষ করব। সেখানে আমাদের আত্মীয়-স্বজন আছেন। তারা বলছেন, তারাই সৎকারের ব্যবস্থা করবেন।

এর আগে দিনভর কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেন নিহতদের স্বজনেরা। তারা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। লাশ শনাক্ত করতে গিয়ে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। এক স্বজন বলেন, ‘লাশটা দেখে তো আমার ভালো লাগছে না। যে লাশটা ফুলে গেছে, আর জায়গায় জায়গায় মাংস নাই, চামড়া উঠে গেছে। চেনার মতোই… চেনার কষ্ট, চিনতেই অনেক কষ্ট। তারপরও আমি শনাক্ত করছি।’
অপর এক স্বজন ‘শিখা ইন’ হোটেলের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি যে পরিস্থিতি দেখেছি, এটা আসলে হোটেল বলা যাবে না, এটা কবরখানাই বলতে হবে।’

বেনাপোল প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল দিয়ে পাঁচটি লাশ আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাভারের একজন এবং কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজন রয়েছেন। কলকাতা থেকে বেনাপোলে লাশ পৌঁছাতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সকালে কলকাতার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় লাশ কখন বেনাপোলে পৌঁছাবে, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে দুপুর নাগাদ পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান বলেন, লাশগুলো আজ দুপুর নাগাদ বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, কলকাতা থেকে নিহত বাংলাদেশিদের লাশ আজ সকালে আসার কথা থাকলেও প্রক্রিয়াগত কারণে দুপুর নাগাদ পৌঁছাতে পারে। লাশ গ্রহণ ও দেশে প্রবেশের জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের লাশ গ্রহণের জন্য সাংবাদিক নেতাসহ স্বজনেরা কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। লাশ দেশে পৌঁছানোর পর সেগুলো কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে দাফন করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট বুধবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক।
লাশ দেশে আসার খবরে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনের লাশ দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাংলাদেশিদের লাশ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।