ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম

  • অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 69

আজকাল অনেক স্বামী-স্ত্রী ঘরে একসঙ্গে জামাতে ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করেন। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় জায়েজ ও উত্তম আমল। বিশেষত তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল নামাজ স্বামী-স্ত্রী জামাতে আদায় করতে পারেন। ফরজ নামাজ গ্রহণযোগ্য ওজর না থাকলে পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুআক্কাদা। গ্রহণযোগ্য কোনো ওজরের কারণে মসজিদে যেতে না পারলে ফরজ নামাজও স্ত্রীর সঙ্গে জামাতে আদায় করা যেতে পারে।
কে ইমামতি করবেন, কে ইকামত দেবেন?

স্বামী-স্ত্রী যদি জামাত করে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করেন, তাহলে ইমামতি স্বামী করবেন, ইকামতও স্বামীই দেবেন। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৭২)
কারণ আজান-ইকামত দেওয়া পুরুষদের কাজ। নারীদের আজান-ইকামত দেওয়া মাকরুহ।

হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং (জুমার জন্য) গোসল করা আবশ্যক নয়। (সুনানে বায়হাকি: ২/১৬৯)
স্বামী-স্ত্রী জামাতে নফল নামাজ আদায় করলে স্বামী ইমামতি করবেন, ইকামত দিতে হবে না। নফল নামাজের জামাতে ইকামত দেওয়ার নিয়ম নেই।
স্বামী-স্ত্রীর জামাতে স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন?

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে দাঁড়াবেন অর্থাৎ ইমাম (স্বামী) মুক্তাদির (স্ত্রীর) বাম পাশে থাকবেন।

আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহ.) বলেন, আমি এক দুপুরে ওমরের (রা.) কাছে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি নফল নামাজ পড়ছিলেন। তিনি আমাকে নামাজের জন্য তার বরাবর ডান পাশে দাঁড় করালেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ২৮৩৮)
স্ত্রী (মুক্তাদি) স্বামীর (ইমাম) ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে কমপক্ষে স্বামীর গোড়ালির পেছনে দাঁড়াবেন। একদম সমান সমান দাঁড়াবেন না। একদম বরাবর দাঁড়ালে নামাজ হবে না।
নামাজে স্বামীর ভুল হলে স্ত্রীর করণীয় কী?

স্বামী (ইমাম) যদি নামাজ পড়াতে গিয়ে কোনো ভুল করেন এবং স্ত্রী (মুক্তাদি) বুঝতে পারেন স্বামী ভুল করছেন, যেমন তিনি দুই রাকাত পরবর্তী বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, চার রাকাত শেষ করেও পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন ইত্যাদি, তাহলে স্ত্রী বাম হাতের ওপর ডান হাত মেরে আওয়াজ করে স্বামীকে বুঝিয়ে দেবেন তিনি ভুল করছেন।
সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমর ইবনে আওফ গোত্রের একটি বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে যান। রাসুলের (সা.) অনুপস্থিতিতে আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবু বকরকে (রা.) নামাজ পড়াতে অনুরোধ করলেন। আবু বকর (রা.) নামাজ পড়ানো শুরু করার পর নবীজি উপস্থিত হয়ে নামাজে শরিক হলে সাহাবিরা হাতের ওপর হাত মেরে আওয়াজ করে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেন যেন তিনি নবীজিকে ইমামের দায়িত্ব দিয়ে পিছিয়ে আসেন। নামাজ শেষে নবীজি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের হাতে আওয়াজ করতে দেখলাম। কারণ কী? নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললে তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হবে। হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য। (সহিহ বুখারি: ১২০১)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরুষরা ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলে ইমামকে সতর্ক করবেন। আর নারীরা বাম হাতের পিঠে ডান হাত মেরে আওয়াজ করে ইমামকে সতর্ক করবেন।
স্বামী-স্ত্রী নেক আমলে পরস্পরের সহযোগী হলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহযোগী হলে আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) এমন স্বামী স্ত্রীর জন্য রহমতের দোয়া করেছেন।
আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ সেই পুরুষের ওপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, তারপর সেও নামাজ পড়ে। স্ত্রী না উঠতে চাইলে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ওই নারীর ওপর রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগায়, আর সেও নামাজ পড়ে। স্বামী না উঠতে চাইলে সে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৩৩৬, মুসনাদে আহমদ: ৭৪০৫)

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম

আপডেট সময় ১১:১৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজকাল অনেক স্বামী-স্ত্রী ঘরে একসঙ্গে জামাতে ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করেন। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় জায়েজ ও উত্তম আমল। বিশেষত তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল নামাজ স্বামী-স্ত্রী জামাতে আদায় করতে পারেন। ফরজ নামাজ গ্রহণযোগ্য ওজর না থাকলে পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুআক্কাদা। গ্রহণযোগ্য কোনো ওজরের কারণে মসজিদে যেতে না পারলে ফরজ নামাজও স্ত্রীর সঙ্গে জামাতে আদায় করা যেতে পারে।
কে ইমামতি করবেন, কে ইকামত দেবেন?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

স্বামী-স্ত্রী যদি জামাত করে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করেন, তাহলে ইমামতি স্বামী করবেন, ইকামতও স্বামীই দেবেন। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৭২)
কারণ আজান-ইকামত দেওয়া পুরুষদের কাজ। নারীদের আজান-ইকামত দেওয়া মাকরুহ।

হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং (জুমার জন্য) গোসল করা আবশ্যক নয়। (সুনানে বায়হাকি: ২/১৬৯)
স্বামী-স্ত্রী জামাতে নফল নামাজ আদায় করলে স্বামী ইমামতি করবেন, ইকামত দিতে হবে না। নফল নামাজের জামাতে ইকামত দেওয়ার নিয়ম নেই।
স্বামী-স্ত্রীর জামাতে স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন?

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে দাঁড়াবেন অর্থাৎ ইমাম (স্বামী) মুক্তাদির (স্ত্রীর) বাম পাশে থাকবেন।

আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহ.) বলেন, আমি এক দুপুরে ওমরের (রা.) কাছে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি নফল নামাজ পড়ছিলেন। তিনি আমাকে নামাজের জন্য তার বরাবর ডান পাশে দাঁড় করালেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ২৮৩৮)
স্ত্রী (মুক্তাদি) স্বামীর (ইমাম) ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে কমপক্ষে স্বামীর গোড়ালির পেছনে দাঁড়াবেন। একদম সমান সমান দাঁড়াবেন না। একদম বরাবর দাঁড়ালে নামাজ হবে না।
নামাজে স্বামীর ভুল হলে স্ত্রীর করণীয় কী?

স্বামী (ইমাম) যদি নামাজ পড়াতে গিয়ে কোনো ভুল করেন এবং স্ত্রী (মুক্তাদি) বুঝতে পারেন স্বামী ভুল করছেন, যেমন তিনি দুই রাকাত পরবর্তী বৈঠক না করেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, চার রাকাত শেষ করেও পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন ইত্যাদি, তাহলে স্ত্রী বাম হাতের ওপর ডান হাত মেরে আওয়াজ করে স্বামীকে বুঝিয়ে দেবেন তিনি ভুল করছেন।
সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমর ইবনে আওফ গোত্রের একটি বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে যান। রাসুলের (সা.) অনুপস্থিতিতে আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে, মুয়াজ্জিন আবু বকরকে (রা.) নামাজ পড়াতে অনুরোধ করলেন। আবু বকর (রা.) নামাজ পড়ানো শুরু করার পর নবীজি উপস্থিত হয়ে নামাজে শরিক হলে সাহাবিরা হাতের ওপর হাত মেরে আওয়াজ করে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেন যেন তিনি নবীজিকে ইমামের দায়িত্ব দিয়ে পিছিয়ে আসেন। নামাজ শেষে নবীজি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের হাতে আওয়াজ করতে দেখলাম। কারণ কী? নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললে তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হবে। হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য। (সহিহ বুখারি: ১২০১)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় নামাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরুষরা ‘সুবাহানাল্লাহ’ বলে ইমামকে সতর্ক করবেন। আর নারীরা বাম হাতের পিঠে ডান হাত মেরে আওয়াজ করে ইমামকে সতর্ক করবেন।
স্বামী-স্ত্রী নেক আমলে পরস্পরের সহযোগী হলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহযোগী হলে আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) এমন স্বামী স্ত্রীর জন্য রহমতের দোয়া করেছেন।
আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ সেই পুরুষের ওপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, তারপর সেও নামাজ পড়ে। স্ত্রী না উঠতে চাইলে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ ওই নারীর ওপর রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগায়, আর সেও নামাজ পড়ে। স্বামী না উঠতে চাইলে সে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৩৩৬, মুসনাদে আহমদ: ৭৪০৫)