ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

জ্বালানি সংকটে পাম্পে,তেলের জন্য দির্ঘ লাইন-জনজীবন বিপর্যস্ত

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলো। ঘন্টার পর ঘন্টা দির্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে হচ্ছে। ১ শত টাকার করে তেল দিচ্ছে যা প্রয়োজনীয় তুলনায় অপ্রতূল।  আবার কোথাও তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ দেখা যায় এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।
 বুধবার (২৫ মার্চ) আদিতমারী সদরে অবস্থিত ফাতেমা ফিলিং স্টেশন ও শাহিনা ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে পাম্পে শত,শত মোটরসাইকেল তেলের জন্য দির্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখাগেছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় পাম্পে মাত্র ১ শত টাকার করে তেল দিচ্ছে। এর ফলে যানবাহনগুলো তেলের চাহিদা মিটছে না। আবার নামুড়ী মদনপুর এলাকার কেএস ফিলিং স্টেশন পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ দেখা গেছে। পাম্প মালিকরা জানান, যে তুলনায় তেল পাওয়ার কথা সে তুলনায় না পাওয়া এ পরস্থীতি তৈরি হচ্ছে।
​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণ দেখিয়ে লালমনিরহাট জেলার অধিকাংশ পাম্প অঘোষিতভাবে বন্ধ করে দেন মালিকরা। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের একটি পাম্প খোলা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কয়েকশ মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভিড় করে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় আবার কিছু গ্রামের খোলা হাট-বাজারগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে রাখা তেল এখন লিটার প্রতি ২ শত থেকে তার বেশি দরে বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে তেলের এই চরম সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আলু ও তামাক তুলে নতুন করে ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতির এই সময়ে ট্রাকটর,পাওয়ার টিলার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
​আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক গৌরাঙ্গ রায় বলেন, আমি অনেকদুরে যাব দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ১ শত টাকার তেল পেলাম তা দিয়ে কি হবে?  বাড়ি ফিরতেই না তেল শেষ হয়ে যাবে।”
একই পাম্পে তেল আসা হাতিবান্ধা এলাকার পুষ্পজিত রায় বলেন,আমি দু-থেকে তিনটা পাম্প ঘুরে এসে এখানে তেল পেলাম তাও আবার মাত্র ১ শত টাকার তেল। এ তেল দিয়ে কি হবে আমার বাড়ী যেতে পারব না। অর্ধেক রাস্তায় তেল শেষ।হয়ে যাবে।
সাধারন জনগনরা জানান, সরকার বলছে তেলের অভাব নেই, কিন্তু মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের জিম্মি করছে। তবে কি কারনে তেলের এই সংকট তারা জানতে চায়।
শাহিনা ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল হাশিম বলেন,যে তুলনায় তেল দরকার সে তুলনায় তেল পাচ্ছিনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সবাই যাতে তেল পায় তার জন্য প্রত্যককে ১ শত টাকার তেল দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা এক লিটার করে তেল দিচ্ছি।
আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশন, পাম্প মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য। যেখানে প্রতিদিন ১২ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে রেশনিং সিস্টেমে মাত্র ২ হাজার লিটার দেওয়া হচ্ছে। লরি না আসায় আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।
কেএস ফিলিং স্টেশনের মালিক আসিফ বলেন, চাহিদার তুলনায় তেলের বরাদ্দ পাচ্ছি কম পাচ্ছি। যেটুকু বরাদ্দ পাচ্ছি তা দিয়ে হচ্ছেনা ফলে আসা মাত্রই শেষ হয়ে যায়। আর তেল না থাকা কারনে পাম্প বন্ধ করে রেখেছি। তবে তেলের লরি আসতেছে আগামিকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারিতিভাবে তেল দেওয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইএনও) নিয়মিত পাম্পগুলোর মজুত তদারকি করছেন। তিনি বলেন, “পাম্পের হাউজগুলোতে আসলেই তেলের স্বল্পতা পাওয়া গেছে। তবে আশা করছি আগামী ২-১ দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।”
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

এবার ‘নিট’ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার থালাপতি বিজয়ের দল

জ্বালানি সংকটে পাম্পে,তেলের জন্য দির্ঘ লাইন-জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় ০৮:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলো। ঘন্টার পর ঘন্টা দির্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে হচ্ছে। ১ শত টাকার করে তেল দিচ্ছে যা প্রয়োজনীয় তুলনায় অপ্রতূল।  আবার কোথাও তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ দেখা যায় এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।
 বুধবার (২৫ মার্চ) আদিতমারী সদরে অবস্থিত ফাতেমা ফিলিং স্টেশন ও শাহিনা ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে পাম্পে শত,শত মোটরসাইকেল তেলের জন্য দির্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখাগেছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় পাম্পে মাত্র ১ শত টাকার করে তেল দিচ্ছে। এর ফলে যানবাহনগুলো তেলের চাহিদা মিটছে না। আবার নামুড়ী মদনপুর এলাকার কেএস ফিলিং স্টেশন পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ দেখা গেছে। পাম্প মালিকরা জানান, যে তুলনায় তেল পাওয়ার কথা সে তুলনায় না পাওয়া এ পরস্থীতি তৈরি হচ্ছে।
​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণ দেখিয়ে লালমনিরহাট জেলার অধিকাংশ পাম্প অঘোষিতভাবে বন্ধ করে দেন মালিকরা। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের একটি পাম্প খোলা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কয়েকশ মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভিড় করে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় আবার কিছু গ্রামের খোলা হাট-বাজারগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে রাখা তেল এখন লিটার প্রতি ২ শত থেকে তার বেশি দরে বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে তেলের এই চরম সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আলু ও তামাক তুলে নতুন করে ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতির এই সময়ে ট্রাকটর,পাওয়ার টিলার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
​আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক গৌরাঙ্গ রায় বলেন, আমি অনেকদুরে যাব দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ১ শত টাকার তেল পেলাম তা দিয়ে কি হবে?  বাড়ি ফিরতেই না তেল শেষ হয়ে যাবে।”
একই পাম্পে তেল আসা হাতিবান্ধা এলাকার পুষ্পজিত রায় বলেন,আমি দু-থেকে তিনটা পাম্প ঘুরে এসে এখানে তেল পেলাম তাও আবার মাত্র ১ শত টাকার তেল। এ তেল দিয়ে কি হবে আমার বাড়ী যেতে পারব না। অর্ধেক রাস্তায় তেল শেষ।হয়ে যাবে।
সাধারন জনগনরা জানান, সরকার বলছে তেলের অভাব নেই, কিন্তু মালিকরা সিন্ডিকেট করে আমাদের জিম্মি করছে। তবে কি কারনে তেলের এই সংকট তারা জানতে চায়।
শাহিনা ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল হাশিম বলেন,যে তুলনায় তেল দরকার সে তুলনায় তেল পাচ্ছিনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সবাই যাতে তেল পায় তার জন্য প্রত্যককে ১ শত টাকার তেল দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা এক লিটার করে তেল দিচ্ছি।
আদিতমারী ফাতেমা ফিলিং স্টেশন, পাম্প মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য। যেখানে প্রতিদিন ১২ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে রেশনিং সিস্টেমে মাত্র ২ হাজার লিটার দেওয়া হচ্ছে। লরি না আসায় আমরা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।
কেএস ফিলিং স্টেশনের মালিক আসিফ বলেন, চাহিদার তুলনায় তেলের বরাদ্দ পাচ্ছি কম পাচ্ছি। যেটুকু বরাদ্দ পাচ্ছি তা দিয়ে হচ্ছেনা ফলে আসা মাত্রই শেষ হয়ে যায়। আর তেল না থাকা কারনে পাম্প বন্ধ করে রেখেছি। তবে তেলের লরি আসতেছে আগামিকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারিতিভাবে তেল দেওয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইএনও) নিয়মিত পাম্পগুলোর মজুত তদারকি করছেন। তিনি বলেন, “পাম্পের হাউজগুলোতে আসলেই তেলের স্বল্পতা পাওয়া গেছে। তবে আশা করছি আগামী ২-১ দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।”
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন