চা শ্রমিকের সরকারি ভাতা থেকে ভাগ না দেওয়ায় ভাতা বন্দ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চা বাগান মালিক ও সমাজ সেবা অফিসের বিরুদ্ধে। নীতিমালা অনুযায়ী চা শ্রমিকদের ভাতা প্রদান করেন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে। আর এই ভাতাকে কেন্দ্র করে চা বাগানের মালিকের অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করলেন চা শ্রমিকগন। তবে অনেকে মনে করছেন এই দুর্নীতির সাথে সয়ং সমাজসেবা অফিসও জরিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে ২০০৭ সালে সোমা টি স্টেট নামে প্রায় কয়েক একর জমির উপর চা উৎপাদনের লক্ষে কাজ শুরু করেন সাহানার আক্তার নামে এক নারী উদ্যোগতা।তবে এখন আর অধিকাংশ জমিতে তা উদ্বোধন হয় না। চা বাগান মালিক সাহানারা আক্তার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ফেরদৌস আলমের স্ত্রী বলে জানা গেছে। শুরুতে চা শ্রমিকের মজুরী কম হওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তর এগিয়ে আসেন চা উৎপাদনে শ্রমিকদের পাশে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিকের জায়গায় ২২০ জন শ্রমিকের ভাতা প্রদানের তালিকা পাঠান সমাজ সেবা অধিদপ্তরে।পরে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে শ্রমিকদের নিজস্ব মোবাইল নম্বরে বিকাশে প্রথম দিকে প্রতি বছরে ৫ হাজার করে টাকা প্রদান করেন সরকার। শ্রমিকদের অভিযোগের আলোকে জানা যায় শ্রমিকদের একাউন্টে টাকা আসার কিছুক্ষনের মধ্যে চা বাগান মালিক সাহানারা আক্তারের স্বামী ফেরদৌস আলম ভাতাভোগী শ্রমিকদের বাড়িতে হাজির হন। এবং শ্রমিকদের মোবাইল নিয়ে সেখান থেকে ২হাজার টাকা ফেরদৌস আলমের মোবাইল নম্বরে সেন্ড করেন। এভাবে প্রতিটি ভাতাভোগী শ্রমিকের কাছ থেকে ২ হাজার করে টাকা আত্মসাৎএর উদ্দেশ্যে গ্রহন করেন ফেরদৌস আলম। এভাবে প্রায় তিন বছর সকল ভাতাভোগী শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করেন। এক পর্যায় কিছু শ্রমিক ফেরদৌস আলমকে টাকা দেওয়া বন্দ করেন, এনিয়ে ফেরদৌস আলম ওই শ্রমিকদেরকে হুমকি প্রদান করেন ভাতা বন্দ করে দেওয়ার। পরবর্তীতে প্রায় ৪৪ জন ভাতাভোগী শ্রমিকের ভাতা বন্দ হয়ে যায়। এব্যাপারে কয়েকবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাথে চা শ্রমিকরা যোগাযোগ করেও কোন ধরনের সমাধান পায়নি। প্রশ্ন ওঠে চা বাগান মালিক ফেরদৌস আলম শ্রমিকদের ভাতা চাইলেই বন্ধ করেন কিভাবে। অনুসন্ধানে জানা যায় ফেরদৌস আলম যে টাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে নেয় সেই টাকা সমাজসেবা অফিসে কিছু অর্থ লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতেও যায়। সমাজ সেবা অফিসের তৎকালীন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে জোক সাজোস করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিকের জায়গায় ২২০ জন শ্রমিক নেয়া হয়। সেই তালিকায় ফেরদৌস আলমের ছেলে জান্নাতুন নাইম সহ অর্ধেকের বেশি তার আত্নীয়সজনের নাম। সে হিসেবে প্রতি তিন মাস পর পর লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন ফেরদৌস আলম। এতেই প্রমান হয় এই দুর্নীতির সাথে সমাজ সেবাও সরাসরি জড়িত। বিষয়টি এখানেই শেষ নয় চা বাগান পরিচালনা করার জন্য একটি কমিটি করা হয় সেই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন অভ্যন্তরীণ কিছু রহস্য যা বলা সম্ভব না। যার কারণে শ্রমিকদের ভাতা বন্ধ করার দরখাস্তে স্বাক্ষর করতে আমি বাধ্য হয়েছি। অপরদিকে চালু থাকা ভাতা ভুগি শ্রমিকদের অভিযোগ কয়েক বছর থেকে তিন মাস পরপর শ্রমিকদের মোবাইলে ১৯ ৬০ টাকা করে ভাতা আসে। সেখান থেকে ফেরদৌস আলম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেটে নেয় শ্রমিকদের কাছ থেকে। যদি ওই টাকা ফেরদৌস আলম কে দেয়া না হয় তাহলে ভাতা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা চা বাগান মালিক ফেরদৌস আলমকে ৮০০ টাকা করে দিতেন। এ ব্যাপারে চা বাগান মালিক ফেরদৌস আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন এসব কথা মিথ্যা ও বানোয়াট । তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন শ্রমিকদের সংখ্যার কথা নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট না থাকলেও হাতীবান্ধার এই সামান্য চা বাগানে এতগুলো শ্রমিক কেন নেয়া হয়েছে আমি জানিনা। চা বাগানের শ্রমিকদের সরকারি ভাতা থেকে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপজন মিত্র বলেন এটি এক ধরনের হরিলুট। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে
চা শ্রমিকের কল্যাণের টাকা লুটপাটের অভিযোগ!
-
আব্দুর রহিম সাংবাদিক (হাতীবান্ধা) লালমনিরহাট। - আপডেট সময় ০৬:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- 29





























