ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

নাসিম হত্যা রহস্যের জট খুলতে পারেনি পুলিশ, অধরা ঘাতকেরা; প্রত্যাহার ওসি

খুলনার দিঘলিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমকে (৫৫) হত্যার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ হত্যার কোন কুল কিনারা করতে পারেনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জনকে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা পরিষ্কার দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত কিংবা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় স্থানীয় থানা পুলিশের তৎপরতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চায়ের দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় একটি ভ্যানে আসা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি বর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোঁড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসিম ফরমায়েশ খানার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।

​ সোমবার (৫ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জন উল্লেখ করে মামলা দায়েরের করেছেন।
​তবে ঘটনার ৩ দিন পার হয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে মারাত্মক ক্ষোভ ও নিরাপত্তা হীনতা তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিসিটিভির মাধ্যমে যেখানে ঘাতকদের স্পষ্ট চেহারা দেখা গেছে, সেখানে ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশের হাত খালি থাকা উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘাতকদের গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।

হত্যার কোন মোটিভ উদঘাটন করতে না পারায় ইতিমধ্যে ​ দিঘলিয়া থানার (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম কে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ জানান,ওসি প্রত্যাহার কি কারনে হয়েছে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জানেন। নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জন উল্লেখ করে মামলা দায়েরের করেছেন। মামলা নং – ৪, তারিখ ৫/১০/২৬ ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুতই মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি-কাগুজে আশ্বাসের বদলে পুলিশ যেন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ও কঠোর অ্যাকশনে নামে এবং দ্রুততম সময়ে ঘাতকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

সরকারি ব্যাংকের ১১ জিএমকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি

নাসিম হত্যা রহস্যের জট খুলতে পারেনি পুলিশ, অধরা ঘাতকেরা; প্রত্যাহার ওসি

আপডেট সময় ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার দিঘলিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমকে (৫৫) হত্যার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ হত্যার কোন কুল কিনারা করতে পারেনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জনকে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা পরিষ্কার দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত কিংবা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় স্থানীয় থানা পুলিশের তৎপরতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চায়ের দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় একটি ভ্যানে আসা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি বর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোঁড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসিম ফরমায়েশ খানার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।

​ সোমবার (৫ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জন উল্লেখ করে মামলা দায়েরের করেছেন।
​তবে ঘটনার ৩ দিন পার হয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে মারাত্মক ক্ষোভ ও নিরাপত্তা হীনতা তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিসিটিভির মাধ্যমে যেখানে ঘাতকদের স্পষ্ট চেহারা দেখা গেছে, সেখানে ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশের হাত খালি থাকা উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘাতকদের গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।

হত্যার কোন মোটিভ উদঘাটন করতে না পারায় ইতিমধ্যে ​ দিঘলিয়া থানার (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম কে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ জানান,ওসি প্রত্যাহার কি কারনে হয়েছে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জানেন। নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ৭-৮ জন উল্লেখ করে মামলা দায়েরের করেছেন। মামলা নং – ৪, তারিখ ৫/১০/২৬ ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুতই মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি-কাগুজে আশ্বাসের বদলে পুলিশ যেন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ও কঠোর অ্যাকশনে নামে এবং দ্রুততম সময়ে ঘাতকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।