কুড়িগ্রামের উলিপুরে শিক্ষা কর্তাদের দায়িত্ব অবহেলায় প্রাথমিক শিক্ষা তলানিতে নেমেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার শিক্ষকদের মনিটরিং এর জন্য উপ-সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ করেছেন। শিক্ষা কর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন না করে জমিদারী ভাবে অফিসে বসে বিদ্যালয় পরিচালনার কাজ সম্পাদন করে বলে সচেতন মানুষজনের অভিযোগ।গত ২ জুলাই
ঘড়ির কাঁটায় সময় দুপুর ১২টা। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণী কক্ষে একজন শিক্ষক ২জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছে।সালাম দিয়ে বলি আসতে পারি বলতেই ওই শিক্ষক প্রশ্ন ছুরলেন কে আপনি?এক সহকর্মী উত্তর দিলেন আমরা সংবাদকর্মী।কথা শুনে বললেন বলেন, জিজ্ঞাসা করলাম এটা কোন শ্রেনী, তিনি উত্তরে বললেন পঞ্চম শ্রেণী এ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী কত জন জানতে চাইলে বলেন, অফিসে হেড স্যার আছে ওনাকে জিজ্ঞেস করেন। অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে ঘুমাচ্ছে ও দুজন মোবাইল ফোনে ফেসবুকে মগ্ন।অপর দিকে ৪র্থ শ্রেনীতে গিয়ে দেখা যায়, এক শিক্ষক ২জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদানে করছে ।অপর এক শিক্ষিকার বাবার বাড়ী পাশে হওয়ায় তিনি বিদ্যালয়ে এসে স্বাক্ষর করে বাবার বাড়ীতে থাকেন বলে স্থানীয় সুত্র জানায়।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার গুণগত মান কি রকম তথ্য নিতে গিয়ে জানা যায়, শিক্ষক প্যাটার্ন হিসেবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংখ্যা ৬ জন। প্রধান শিক্ষকের তথ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১ জন। উপবৃত্তি পায় ৫৬ জন, অবহেলিত এ বিদ্যালয়টি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে অবস্থিত । বিদ্যালয়টির নাম উত্তর সাদুল্যা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ৪জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নাই কেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, এই বিদ্যালয়টির চারিদিকে নুরানী মাদ্রাসা হওয়ার কারনে আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম।আর একটি বিষয় হলো আমার স্কুলে স্কুল ফিডিং না থাকায় বাচ্চারা স্কুলে আসে না।এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ে ক্লাসটার হিসাবে দায়িত্বরত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে কম এটা জানি। ৪জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই আমার কর্তা আমাকে বিভিন্নভাবে অফিসে হেনস্থা করেন। যেহেতু আপনার মারফত জানতে পারলাম বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম অবশ্যই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আপনি/আপনারা বিদ্যালয়টি থেকে আসার পর আজ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ছে।আর অবশ্যই দ্রুত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এম এইচ শাহীন,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 


























