দিনাজপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা ও সৎভাইকে হত্যা: ঘাতক দুই ছেলেকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা ও সৎভাইকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো সাদেকুল ইসলাম (৩০) এবং ০২ নং আসামি মোঃ সাকিব (১৯) কে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, নিহত শহিদুল হক দুলুর প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলাম। কিছুদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে দুলু মিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে নিজ খেতের ভুট্টা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে বাবার ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে সাদিকুল বাড়ি থেকে বল্লম ও ছুরি নিয়ে আসে এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি বাবার বুকে বল্লম দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার পিতা শহিদুল হক দুলু মিয়া লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান।
এ সময় সৎভাই কাবিল বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে সাদিকুল। পরে সে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন কাবিলকে অটোরিকশায় করে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত শহিদুল হক দুলুর প্রথম স্ত্রীর ছেলে হাবিবুর রহমান @ হাবিল বাদী হয়ে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় তার সৎ ভাই ও সৎ মা সহ আরো সহযোগী আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩)। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সদর কোম্পানী, র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২.৩০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড রেলবিট এলাকার মোঃ হারুন মিয়ার রিক্সা গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে আলেচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ সাদেকুল ইসলাম (৩০), পিতা-মৃত শহিদুল হক দুলু, সাং- উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া, থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
২৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ০৯.১০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন হোটেল ব্লু সোম ইন্টারন্যাশনাল এর সামনে পৃথক অপর একটি অভিযানে একই আভিযানিক দল পিতা-পুত্র হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০২ নং আসামি মোঃ সাকিব (১৯), পিতা-মৃত শহিদুল হক দুলু, সাং- উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া, থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে এবং সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 

















