দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে নতুন করে পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করলেন আরও ৩১১ পর্যটকসেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করলেন আরও ৩১১ পর্যটক
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহর বা স্কর্টের সঙ্গে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনে সহস্রাধিকেরও বেশি পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন।
এদিকে অবরোধের কারণে সকালে স্কর্টে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। দুপুরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পর্যটকরা সাজেক ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহ সভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয় বলেন, বর্তমানে সাজেকে সহস্রাধিক পর্যটক রয়েছেন। অবরোধের কারণে সকালের স্কর্টে পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করবেন। নতুন পর্যটক প্রবেশের বিষয়ে বাঘাইহাট সেনাজোন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে যারা সাজেকে আছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই বলে জানান সমিতির এই নেতা।
অনলাইন ডেস্ক : 

































