ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

রংপুরে একসঙ্গে চারজন হত্যার ঘটনায় আটক ২

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায় বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করে বলেও আলামত পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।
সূত্রের দাবি, আটকদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশেই দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় যুবকদের একটি দল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে ঢুকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এদিকে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি স্বীকার না করলেও দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়িটির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে এবং আসবাবপত্রের টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক করলেও করতে পারে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।’

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রংপুরে একসঙ্গে চারজন হত্যার ঘটনায় আটক ২

আপডেট সময় ১১:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায় বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করে বলেও আলামত পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।
সূত্রের দাবি, আটকদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশেই দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, স্থানীয় যুবকদের একটি দল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে ঢুকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এদিকে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি স্বীকার না করলেও দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়িটির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে এবং আসবাবপত্রের টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক করলেও করতে পারে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।’