স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ শীর্ষক গণজাগরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন, কারাবরণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনের পাশাপাশি কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ, বিশেষ করে মাদক, জুয়া ও যৌতুকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন। তিনি তরুণদের মাদক থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক অপরাধ দমনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষক ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এবং আজ লালমনিরহাটে মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে আশা করি এটি সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে।
ফখরুল আরও বলেন, এর আগে দুলুর নেতৃত্বে আরেকটি আন্দোলন হয়েছিল ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ সেই আন্দোলন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের কথা সংসদে আলোচনা করেছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
অনুষ্ঠানে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ আন্দোলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে আয়োজিত গণজাগরণ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেড জাহিদ হাসান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক।
আলোচনা সভা শেষে তিন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি এমটি হোসেন মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 

























