ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

চীন সফরের আগেই যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহকারীদের জানিয়েছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান। সম্ভব হলে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই, যা তিনি প্রকাশ্যেও বলেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংঘাত শুরুর প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তার মতে যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে তার আগেই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

তবে বাস্তবে যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে বিকল্প খুবই সীমিত। শান্তি আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাঝে মাঝে তার মনোযোগ অন্য বিষয়েও সরিয়ে নিচ্ছেন। যেমন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার যোগ্যতা সংক্রান্ত আইন। তিনি এই যুদ্ধকে কখনো কখনো একটি ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবেও দেখছেন। তার কিছু মিত্র আশা করছেন তিনি হয়তো কিউবার মতো অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতি বিষয়েও মনোযোগ দেবেন, আর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জীবনযাত্রার খরচসহ অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করাও জরুরি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক বিষয় একসঙ্গে সামলাতে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য পূরণে পুরোপুরি মনোযোগী। তার একমাত্র লক্ষ্য হলো বিজয়।’

সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতির দিকেও কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। একই সময়ে পেন্টাগন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে।

ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ধারণাও উত্থাপন করেছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা এখনো নেই। যদি তেহরান আলোচনায় না আসে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়াতে প্রস্তুত। তবে তিনি ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক, কারণ এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৩ জন আমেরিকান নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, তার সিদ্ধান্ত কখনো কূটনীতি, কখনো সামরিক উত্তেজনা এই দুইয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। কিছু উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, তারা মনে করেন ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো গেলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জন্য বড় সাফল্য হতে পারে।

তবে যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নয়। তেহরান সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি, আর হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই কৌশলকে ‘বোমা দিয়ে দরকষাকষি’ বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, কিছু সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় অসন্তুষ্ট, কারণ তারা সমঝোতার চেয়ে পূর্ণ বিজয়কে অগ্রাধিকার দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধকে একটি সাময়িক ‘অভিযান’ বা ‘সামরিক অপারেশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলায় পূর্বের সামরিক পদক্ষেপ থেকে তিনি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন।

দেশের ভেতরেও ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে আছেন। যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মার-এ-লাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। সূত্র: দি ইকোনোমিক টাইমস
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর্জেন্টিনা

চীন সফরের আগেই যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহকারীদের জানিয়েছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান। সম্ভব হলে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই, যা তিনি প্রকাশ্যেও বলেছেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংঘাত শুরুর প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তার মতে যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে তার আগেই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

তবে বাস্তবে যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে বিকল্প খুবই সীমিত। শান্তি আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাঝে মাঝে তার মনোযোগ অন্য বিষয়েও সরিয়ে নিচ্ছেন। যেমন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার যোগ্যতা সংক্রান্ত আইন। তিনি এই যুদ্ধকে কখনো কখনো একটি ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবেও দেখছেন। তার কিছু মিত্র আশা করছেন তিনি হয়তো কিউবার মতো অন্যান্য পররাষ্ট্রনীতি বিষয়েও মনোযোগ দেবেন, আর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জীবনযাত্রার খরচসহ অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করাও জরুরি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক বিষয় একসঙ্গে সামলাতে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য পূরণে পুরোপুরি মনোযোগী। তার একমাত্র লক্ষ্য হলো বিজয়।’

সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতির দিকেও কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। একই সময়ে পেন্টাগন ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে।

ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ধারণাও উত্থাপন করেছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা এখনো নেই। যদি তেহরান আলোচনায় না আসে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়াতে প্রস্তুত। তবে তিনি ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক, কারণ এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৩ জন আমেরিকান নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, তার সিদ্ধান্ত কখনো কূটনীতি, কখনো সামরিক উত্তেজনা এই দুইয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। কিছু উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, তারা মনে করেন ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো গেলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জন্য বড় সাফল্য হতে পারে।

তবে যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নয়। তেহরান সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি, আর হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই কৌশলকে ‘বোমা দিয়ে দরকষাকষি’ বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, কিছু সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় অসন্তুষ্ট, কারণ তারা সমঝোতার চেয়ে পূর্ণ বিজয়কে অগ্রাধিকার দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধকে একটি সাময়িক ‘অভিযান’ বা ‘সামরিক অপারেশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলায় পূর্বের সামরিক পদক্ষেপ থেকে তিনি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন।

দেশের ভেতরেও ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে আছেন। যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মার-এ-লাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। সূত্র: দি ইকোনোমিক টাইমস
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন