ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

রংপুরে একই পরিবারের চার খুন: আলামত গেল ফরেনসিক ল্যাবে

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিহত গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখনো গ্রেপ্তার আসামিদের নমুনা নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী।

সিআইডি ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি। ঘটনার ১২ দিন পর তিন দফায় এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আলামতের মধ্যে রয়েছে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখা।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গত দুই দিনে তিন দফায় সিআইডি থেকে পাওয়া সব আলামত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কারাগারে থাকা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামিদের নমুনা দ্রুত সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত কেন দ্রুত ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রেখেছে সিআইডি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ মিললে হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

সিআইডির রংপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা পরিদর্শক মিল্লাতের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টিরও বেশি আলামত সংগ্রহ করেন। পরে সব আলামত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা

রংপুরে একই পরিবারের চার খুন: আলামত গেল ফরেনসিক ল্যাবে

আপডেট সময় ১২:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিহত গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখনো গ্রেপ্তার আসামিদের নমুনা নেওয়া হয়নি।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী।

সিআইডি ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি। ঘটনার ১২ দিন পর তিন দফায় এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আলামতের মধ্যে রয়েছে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখা।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গত দুই দিনে তিন দফায় সিআইডি থেকে পাওয়া সব আলামত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কারাগারে থাকা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামিদের নমুনা দ্রুত সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত কেন দ্রুত ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রেখেছে সিআইডি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ মিললে হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

সিআইডির রংপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা পরিদর্শক মিল্লাতের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টিরও বেশি আলামত সংগ্রহ করেন। পরে সব আলামত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।