সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সব ধাপ বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালে তাদের মোট বেতন-ভাতা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। নতুন পে স্কেলে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের বেতন
ঘোষিত নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন। পুরোনো পে স্কেলে এ গ্রেডের মূল বেতন শুরু হতো ১১ হাজার টাকা থেকে। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে।
চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর সব ধাপ বাস্তবায়ন হলে ২০২৮ সালে একজন নতুন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বর্তমানে চাকরিতে থাকা সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতার পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাকরির মেয়াদ ও প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্টের কারণে তাদের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১০ম গ্রেডে বেতন পান। পুরোনো কাঠামোয় এ গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন পে স্কেলে তা দ্বিগুণ হয়ে শুরু হবে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে।
ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন
৪ ধাপে বাস্তবায়ন, কোন পর্যায়ে কত বেতন বাড়বে চাকরিজীবীদের
৪ ধাপে বাস্তবায়ন, কোন পর্যায়ে কত বেতন বাড়বে চাকরিজীবীদের
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পুরোনো ১৬ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়াবে ২৮ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হলে মূল বেতন হবে ৩২ হাজার টাকা।
২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য নতুন ভাতা কার্যকর হলে ১০ম গ্রেডের একজন প্রধান শিক্ষকের প্রারম্ভিক মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
পুরোনোদের ক্ষেত্রে হিসাব ভিন্ন
নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়া শিক্ষক এবং বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার হিসাব এক হবে না। পুরোনোদের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারিত হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়। ফলে একই গ্রেডে থাকা প্রধান শিক্ষকদের বেতনেও চাকরির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পার্থক্য থাকতে পারে।
তবে নতুন পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে। প্রজ্ঞাপনে বেতন বাস্তবায়নের ধাপ, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
অনলাইন ডেস্ক : 


























