ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

নোবিপ্রবিতে মধ্যরাতে তাণ্ডব: শিক্ষার্থীর স্বামীর মাথা ফাটালেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর স্বামীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত ৫ জুন রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আলুওয়ালার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিবলু বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী। তিনি ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অভিযুক্ত শিবলু ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন মিলে এই হামলা চালান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী নোবিপ্রবির ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “সেদিন রাতে আমি অসুস্থ ছিলাম। আমার স্বামী ওষুধ আনতে পকেট গেটের দিকে গিয়েছিলেন। দোকান বন্ধ থাকায় তিনি রিকশার খোঁজে আলুওয়ালার দোকানের দিকে যান। সেখানে কয়েকজন তাকে ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তারা তার ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়। আমার মনে হয়, হামলাকারীরা তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না।”

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন পরিচয় দেওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “পরিচয় দেওয়ার পর একজন এসে আমাকে ধমকাতে শুরু করে এবং চড় মারে। আত্মরক্ষার জন্য আমি তার শার্টের কলার ধরে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে একটি চেয়ার দিয়ে আমার মাথা, হাত ও শরীরে আঘাত করে। আমাকে যখন তিনি চড়াও হয়ে মারতে আসে তখন তার সাথে বসা দুইজন চেয়ারে বসেছিলো,আরেকজন এসে থামানোর চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি একটি রিকশায় করে সোনাপুরের একটি হাসপাতালে যাই।”

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিবলু বিশ্বাস মারধরের কথা স্বীকার করলেও তাঁর দাবি, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থেই তিনি চেয়ার ছুড়ে মেরেছিলেন। তিনি বলেন, “ঐ যুবক দীর্ঘ সময় ধরে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। পরিচয় জানতে চাইলে সে রূঢ় আচরণ করে এবং একপর্যায়ে আমার গলা চেপে ধরে পিঠে আঘাত করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে আমি বসার চেয়ারটি ছুড়ে দিই, যা দুর্ভাগ্যবশত তার মাথায় লাগে।”

ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে শিবলু বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। ছাত্রজীবনে বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সময় কখনো অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি করিনি। আমি চাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

জোড়া গোলে ৯১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

নোবিপ্রবিতে মধ্যরাতে তাণ্ডব: শিক্ষার্থীর স্বামীর মাথা ফাটালেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময় ০২:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর স্বামীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত ৫ জুন রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আলুওয়ালার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

অভিযুক্ত শিবলু বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী। তিনি ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অভিযুক্ত শিবলু ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন মিলে এই হামলা চালান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী নোবিপ্রবির ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “সেদিন রাতে আমি অসুস্থ ছিলাম। আমার স্বামী ওষুধ আনতে পকেট গেটের দিকে গিয়েছিলেন। দোকান বন্ধ থাকায় তিনি রিকশার খোঁজে আলুওয়ালার দোকানের দিকে যান। সেখানে কয়েকজন তাকে ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তারা তার ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়। আমার মনে হয়, হামলাকারীরা তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না।”

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন পরিচয় দেওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “পরিচয় দেওয়ার পর একজন এসে আমাকে ধমকাতে শুরু করে এবং চড় মারে। আত্মরক্ষার জন্য আমি তার শার্টের কলার ধরে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে একটি চেয়ার দিয়ে আমার মাথা, হাত ও শরীরে আঘাত করে। আমাকে যখন তিনি চড়াও হয়ে মারতে আসে তখন তার সাথে বসা দুইজন চেয়ারে বসেছিলো,আরেকজন এসে থামানোর চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি একটি রিকশায় করে সোনাপুরের একটি হাসপাতালে যাই।”

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিবলু বিশ্বাস মারধরের কথা স্বীকার করলেও তাঁর দাবি, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থেই তিনি চেয়ার ছুড়ে মেরেছিলেন। তিনি বলেন, “ঐ যুবক দীর্ঘ সময় ধরে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। পরিচয় জানতে চাইলে সে রূঢ় আচরণ করে এবং একপর্যায়ে আমার গলা চেপে ধরে পিঠে আঘাত করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে আমি বসার চেয়ারটি ছুড়ে দিই, যা দুর্ভাগ্যবশত তার মাথায় লাগে।”

ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে শিবলু বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। ছাত্রজীবনে বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সময় কখনো অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি করিনি। আমি চাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”