যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখবে, ততদিন তেহরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে বলে জানিয়েছে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই অবস্থান হামলার জবাবে হামলা নীতির ওপরই ভিত্তি করে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে ইরানও তার অবস্থান বদলাতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। হামলা বন্ধ হলে ইরানও সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। এই বার্তা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
টানা ১৩ রাত ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করে। এরপর শনিবার ও রোববার (২৫-২৬ জুলাই) নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানও গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা চালায়নি। এর আগে প্রতি রাতেই মার্কিন হামলার জবাবে ওই অঞ্চলগুলোতে পাল্টা আঘাত হানছিল তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য কিছু সময় দিতেই সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওয়াল্টজ বলেন, আলোচনার জন্য তিনি কিছুটা সুযোগ তৈরি করছেন এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ব্যাপক বিমান হামলায় পূর্বনির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তুতে ইতোমধ্যেই আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, বড় পরিসরে হামলা পুনরায় শুরু করলে অস্ত্রের মজুতের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান মনে করে না যে মার্কিন হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তার ভাষায়, আশাবাদের চেয়ে সন্দেহই বেশি। আমাদের ধারণা, এটি কৌশলগত বিরতি, প্রকৃত নীতিগত পরিবর্তন নয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিজ্ঞতার কারণে ইরান খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালায় বলে মার্কিন পক্ষের দাবি।
ইরান বলছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























