সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারকে ব্যবহার করে দেশে নতুন করে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে “লোভনীয় অফার”, “বোনাস”, “দ্রুত পেমেন্ট” কিংবা “উচ্চ অডস”-এর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন সন্দেহজনক লিংক পাঠানো হচ্ছে। অনেকেই না বুঝে এসব লিংকে প্রবেশ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন মেসেঞ্জার চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুদের আইডি ব্যবহার করেও এই ধরনের বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনেকের ধারণা, আইডি হ্যাক বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। এসব বার্তায় অনলাইন গেম বা আয়ের সুযোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেগুলো অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ দ্রুত লাভের আশায় এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ছে। প্রথমে ছোট অঙ্কের লাভ দেখিয়ে পরে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে পরিবারে অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও অনলাইন পেজে দাবি করা হচ্ছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সাইবার নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিচিত বা লোভনীয় কোনো লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট দ্রুত রিপোর্ট করাই হতে পারে এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার অন্যতম উপায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
মো: ফারুক হোসেন (নিশাত) নিউজবিজয় প্রতিবেদক 


























