ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
আলোচিত:

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

ককরোচের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই মোদির সামনে ‘দিমাগি নকশাল’ বিপদ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র নকশালবাদের প্রায় অবসান হয়েছে বলে দাবি করলেও, নতুন এক মতাদর্শিক ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেন।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা লালন করছে এবং তারা দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। মোদির মতে, এ ধরনের মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং যুবসমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদির এই শব্দচয়নকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে শিক্ষিত তরুণদের ‘নকশালী’ বা উগ্রপন্থী হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা অত্যন্ত অপমানজনক এবং এটি সরকারের চরম অহংকার ও ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
সিজেপি মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন যে ১২ বছর পর দেশের মানুষ মনে ভয় কাটিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে এবং সরকার যতই বিভেদ তৈরির চেষ্টা করুক, তরুণ প্রজন্ম এখন ঐক্যবদ্ধ।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রীর ‘হতাশার লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, মোদি বিভিন্ন সময় ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ বা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো তকমা ব্যবহার করে ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টা করেন।

‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি সেই নতুন প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে তারা মনে করছেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিতর্কের জবাবে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি বিরোধী নেতাদের উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেননি। তার মতে, যারা মাওবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে, সংবিধানকে অস্বীকার করে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেয়, তাদের ক্ষেত্রেই এই শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই অনলাইন জগতে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে নতুন একটি হ্যান্ডেলের উত্থান ঘটেছে, যা নেটমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। রেডইফ ডট কম জানায়, এটি অনেকটা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পথ অনুসরণ করছে, যা এর আগে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই শব্দ প্রয়োগের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভিন্নমতের সরব উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

ককরোচের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই মোদির সামনে ‘দিমাগি নকশাল’ বিপদ

ককরোচের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই মোদির সামনে ‘দিমাগি নকশাল’ বিপদ

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র নকশালবাদের প্রায় অবসান হয়েছে বলে দাবি করলেও, নতুন এক মতাদর্শিক ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

তিনি বলেন, কিছু মানুষ ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা লালন করছে এবং তারা দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। মোদির মতে, এ ধরনের মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং যুবসমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদির এই শব্দচয়নকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে শিক্ষিত তরুণদের ‘নকশালী’ বা উগ্রপন্থী হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা অত্যন্ত অপমানজনক এবং এটি সরকারের চরম অহংকার ও ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
সিজেপি মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন যে ১২ বছর পর দেশের মানুষ মনে ভয় কাটিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে এবং সরকার যতই বিভেদ তৈরির চেষ্টা করুক, তরুণ প্রজন্ম এখন ঐক্যবদ্ধ।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রীর ‘হতাশার লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, মোদি বিভিন্ন সময় ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ বা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো তকমা ব্যবহার করে ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টা করেন।

‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি সেই নতুন প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে তারা মনে করছেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিতর্কের জবাবে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি বিরোধী নেতাদের উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেননি। তার মতে, যারা মাওবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে, সংবিধানকে অস্বীকার করে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেয়, তাদের ক্ষেত্রেই এই শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই অনলাইন জগতে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে নতুন একটি হ্যান্ডেলের উত্থান ঘটেছে, যা নেটমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। রেডইফ ডট কম জানায়, এটি অনেকটা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পথ অনুসরণ করছে, যা এর আগে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই শব্দ প্রয়োগের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভিন্নমতের সরব উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।