ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ঘটনার প্রতিবাদে আর্জেন্টিনা থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে ব্রাজিল।
এর আগে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থি লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ফ্লাভিও বলসোনারো হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।
সমাবেশে মিলেই সরাসরি লুলার নাম উল্লেখ না করলেও ‘চোর’ এবং ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির মামলায় কারাবাসের পর আদালতের রায়ে দণ্ড বাতিল হওয়া এবং ২০২২ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া লুলাকেই ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হওয়ায় নিজের ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকেই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন।
সমাবেশে মিলেই বলেন, লুলাকে থামানোর ক্ষমতা শুধু ফ্লাভিও বলসোনারোরই আছে। একই অনুষ্ঠানে তিনি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরাসকেও কটাক্ষ করেন। সম্প্রতি মোরাস গৃহবন্দি জাইর বলসোনারোর সঙ্গে মিলেইর সাক্ষাতের আবেদন নাকচ করেছিলেন।
মিলেইর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট শুধু ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধানকেই নয়, বিচার বিভাগ, ব্রাজিলের জনগণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও অপমান করেছেন।
রোববার এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট লুলা সরাসরি মিলেইর নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, ব্রাজিলে আমরা কাউকে অযাচিতভাবে অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে দিই না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ফেলেছে। অথচ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অপরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
সূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























