ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

মানিলন্ডারিং মামলায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ড

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কেএম রাকিবুল হুদা। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তার পক্ষে এক আইনজীবী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটা লাইন অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটা মন্দির বানিয়েছেন, সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’ আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।’ পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জ্বি’।

এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে করা যেতে পারে, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে বিচারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করেছেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা ‘দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার করতো’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলদ্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ। ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস আর্থিক সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময় শূকর পালন, বাঁশের তৈরি ডালি-কুলা বিক্রি এবং শ্যালো মেশিন চালানোর কাজ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে চলে যান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস শুরু করে পুরোনো এসি মেরামত ও বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। চাকরি, বদলি, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে পুনরায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এরপরে দেশে ফিরে পলাশবাড়ীর মধ্য রামচন্দ্রপুরের পুরোনো শিব ও কালীমন্দিরের স্থানে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ নির্মাণকাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে ৮১ ফুট উচ্চতার এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে মূর্তির অর্থায়নের উৎস, জমির মালিকানা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয় নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ১১ জুন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৫ জেলে

মানিলন্ডারিং মামলায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ড

আপডেট সময় ০৯:২৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কেএম রাকিবুল হুদা। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তার পক্ষে এক আইনজীবী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটা লাইন অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটা মন্দির বানিয়েছেন, সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’ আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।’ পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জ্বি’।

এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে করা যেতে পারে, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে বিচারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করেছেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা ‘দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার করতো’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলদ্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ। ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস আর্থিক সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময় শূকর পালন, বাঁশের তৈরি ডালি-কুলা বিক্রি এবং শ্যালো মেশিন চালানোর কাজ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে চলে যান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস শুরু করে পুরোনো এসি মেরামত ও বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। চাকরি, বদলি, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে পুনরায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এরপরে দেশে ফিরে পলাশবাড়ীর মধ্য রামচন্দ্রপুরের পুরোনো শিব ও কালীমন্দিরের স্থানে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ নির্মাণকাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে ৮১ ফুট উচ্চতার এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে মূর্তির অর্থায়নের উৎস, জমির মালিকানা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয় নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ১১ জুন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ