কুড়িগ্রাম -লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আদিতমারী উপজেলার হাজিগঞ্জ উপকেন্দ্রে রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতে পাওয়ার ট্রান্সফারমার নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে এই উপকেন্দ্রের আওতায় সব লাইন বন্ধ হয়ে সমস্ত এলাকা অন্ধকারে আছন্ন হয়ে যায়। পরের দিন সোমবার (২৯ জুন) পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের রংপুর থেকে এক্সপার্ট টিম এসে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ট্রান্সফরমার মেরামত করতে গিয়ে দেখা যায় বজ্রপাতের কারনে পুরো ট্রান্সফরমার পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পরে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ কুড়িগ্রাম অফিসের জিএম,এজিএমসহ অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতীতে পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায়,নতুন ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও পরিবহন করতে আগামী ৩ দিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে বলে এই সিন্ধান্তে উপনীত হয়। সে মোতাবেক মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারাদিন পল্লী বিদ্যুৎতের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিংসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার কর হয়। এর ফলে দুইদিন থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় এ উপকেন্দ্রের আওতায় ৫ টি লাইনের উপজেলার কমলাবাড়ী, ভেলাবাড়ি,দুর্গাপুর,কালিগঞ্জ উপজেলার আংশিক গোড়ল- চলবলা এলাকার প্রায় হাজার, হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে মধ্যে আছেন। অপরদিকে বিদ্যুৎতের কারনে অনেক কল কারখানা বন্ধ রয়েছে। শত,শত শ্রমিক কাজ না থাকায় বসে আছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে সাধারন মানুষ চরম অসুবিধার ভোগছেন। সামনে এইচএসসি পরিক্ষা বিদ্যুৎতের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ী-ঘর,হাট-বাজার অন্ধকারছন্ন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরি,ডাকাতির ভয়ে সাধারন মানুষ আতংকের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। মানুষের যেমন ভাত না খেলে চলে না অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকলেও চলে না।
কমলাবাড়ী এলাকার খামাড়ি রাজ্জাক বলেন,বিদ্যুৎ ছাড়া খামার চলেনা। গরু গরম সহ্য করতে পারে না। তাদেরকে নিয়মিত দু-বেলা গোসল করাতে হয় তাছাড়া ২৪ ঘন্টা বৈদ্যুতিক পাখার মাধ্যমে রাখতে হয়। এছাড়া খামার রোগবালাই রোধে নিয়মিত পরিস্কার করতে হয়।বাধ্য হয়ে দুর থেকে কষ্ট করে পানি টেনে গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিকট অতি দ্রুত মেরামত করে বিদ্যুৎ চালুর দাবী জানান।
দুর্গাপুর বাজারের গবাদিপশুর খাদ্য দোকানদার আপেল প্রামাণিক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমার দোকানের চোর,ডাকাতের ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। কবে যে বিদ্যুৎ আসবে আর ভোগান্তি দুর হবে? জনগনের ভোগান্তি থেকে অন্ধকার এলাকাকে আলোকিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নিকট জোর দাবী করেন।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ আদিতমারী অফিসের ডিজিএম আবুল ফাত্তাহ সাংবাদিককে জানান, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার এসেছে এবং জনগনের ভেগান্তি দুর করতে তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎতের লাইন চালু করতে রাত-দিন চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন শ্রমিক দিনে রাতে কাজ করছে। আগামিকাল বুধবার রাতে সমস্ত লাইন চালু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 


















