আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন শঙ্কাই দাম বাড়ার প্রধান কারণ। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার(১সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে।
এর আগের সেশনেও তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
সোমবার(৩১ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই অনিশ্চয়তাই এখন প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছে।
এদিকে মঙ্গলবারও প্রণালিটি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকার তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকেএমটিও।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর পুনরায় পূরণের উদ্যোগ জোরদার করছে।
এ লক্ষ্যে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে তেল চুক্তির বিষয়েও তৎপরতা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের পাশাপাশি ভারত, ইতালি ও কলম্বিয়ার একাধিক তেল কোম্পানি ভেনিজুয়েলায় নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ কমে ২৮৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে, যা গত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংকট এবং গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটগুলোর অনিশ্চয়তা দ্রুত নিরসন না হলে ২০২৬ সালজুড়েই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















