ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

হঠাৎ বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত সময় স্থগিত করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

দপ্তরটি বলেছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারগুলো পুনঃনির্ধারণ করা হবে। তবে এই পরিবর্তন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করতে আরও দক্ষ করে তোলা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণের খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকার পুনঃনির্ধারণের খবর পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি

ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতামত কিংবা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর ফলে বছরে অন্তত ১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে অথবা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা কিংবা বড় কোনো অর্থনৈতিক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

এ ছাড়া পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্পের দাবি, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া এই কঠোর অভিবাসন নীতির লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন, যার আওতায় ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। অধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক নজরদারি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কা বেড়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনায় কমল তেলের দাম

হঠাৎ বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার বন্ধ

আপডেট সময় ০২:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত সময় স্থগিত করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

দপ্তরটি বলেছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারগুলো পুনঃনির্ধারণ করা হবে। তবে এই পরিবর্তন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করতে আরও দক্ষ করে তোলা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণের খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকার পুনঃনির্ধারণের খবর পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি

ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতামত কিংবা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এর ফলে বছরে অন্তত ১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে অথবা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা কিংবা বড় কোনো অর্থনৈতিক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

এ ছাড়া পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্পের দাবি, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া এই কঠোর অভিবাসন নীতির লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন, যার আওতায় ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। অধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক নজরদারি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কা বেড়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি