ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

স্ত্রীকে ‘আপু’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে বা কোনো কাফফারা দিতে হবে?

  • ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 11

প্রশ্ন: স্ত্রীকে ‘আপু’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে বা কোনো কাফফারা দিতে হবে?

উত্তর: স্ত্রীকে আপু বা বোন বলে ডাকা মাকরুহ। হাদিসে এভাবে সম্বোধন করতে নবীজি (সা.) নিষেধ করেছেন।

আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বললো, ‘হে আমার বোন’, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে কি তোমার বোন? তিনি তার এ রকম সম্বোধনকে অপছন্দ করলেন এবং এ রকম সম্বোধন করতে নিষেধ করলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০৪)

তাই স্ত্রীকে বোন, আপু ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, স্ত্রীও স্বামীকে ভাই, ভাইয়া ইত্যাদি সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকবে।

তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকে অথবা স্ত্রী যদি স্বামীকে ভাই বা ভাইয়া বলে ডাকে, তাহলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না; তালাক হবে না বা কোনো কাফফারাও দিতে হবে না।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে এমন শব্দ বা নামে ডাকা সমীচীন, যা থেকে স্বাভাবিক সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়, অসম্মান প্রকাশ না পায়। তারা পরস্পরকে সন্তানদের নামের সাথে সম্পৃক্ত করে ‘অমুকের আম্মু’ বা ‘অমুকের আব্বু’ ডাকতে পারে। এমন আদুরে নামেও ডাকতে পারে যাতে যে নামে স্বামী বা স্ত্রী খুশি হয়। নাম ধরেও স্ত্রীকে বা স্বামীকে ডাকা যেতে পারে যদি তা তাদের সংস্কৃতিতে অপমানসূচক না হয় এবং কেউ অপমান বোধ না করে।

আরবের সংস্কৃতিতে স্বামী যেমন স্ত্রীকে নাম ধরে ডাকতো, স্ত্রীও স্বামীকে নাম ধরে ডাকার প্রচলন ছিল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন আল্লাহর রাসুল ইবরাহিম (আ.) তার স্ত্রী হাজেরা এবং শিশু পুত্র ইসমাইলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে তার স্ত্রী তাকে ডেকে বললেন, হে ইবরাহিম, তুমি আমাদের এমন জনমানবহীন উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছ? (সহিহ বুখারি: ৩৩৬৫)

তবে কোনো অঞ্চলের সামাজিক সংস্কৃতিতে স্বামীর নাম ধরে ডাকা সম্মানজনক না হলে এবং স্বামী পছন্দ না করলে নাম ধরে ডাকা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোনো সম্মানজনক শব্দে তাকে ডাকতে হবে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ৮ বছর বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের অবতরণ

স্ত্রীকে ‘আপু’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে বা কোনো কাফফারা দিতে হবে?

আপডেট সময় ১২:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন: স্ত্রীকে ‘আপু’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে বা কোনো কাফফারা দিতে হবে?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

উত্তর: স্ত্রীকে আপু বা বোন বলে ডাকা মাকরুহ। হাদিসে এভাবে সম্বোধন করতে নবীজি (সা.) নিষেধ করেছেন।

আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বললো, ‘হে আমার বোন’, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে কি তোমার বোন? তিনি তার এ রকম সম্বোধনকে অপছন্দ করলেন এবং এ রকম সম্বোধন করতে নিষেধ করলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০৪)

তাই স্ত্রীকে বোন, আপু ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, স্ত্রীও স্বামীকে ভাই, ভাইয়া ইত্যাদি সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকবে।

তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকে অথবা স্ত্রী যদি স্বামীকে ভাই বা ভাইয়া বলে ডাকে, তাহলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না; তালাক হবে না বা কোনো কাফফারাও দিতে হবে না।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে এমন শব্দ বা নামে ডাকা সমীচীন, যা থেকে স্বাভাবিক সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়, অসম্মান প্রকাশ না পায়। তারা পরস্পরকে সন্তানদের নামের সাথে সম্পৃক্ত করে ‘অমুকের আম্মু’ বা ‘অমুকের আব্বু’ ডাকতে পারে। এমন আদুরে নামেও ডাকতে পারে যাতে যে নামে স্বামী বা স্ত্রী খুশি হয়। নাম ধরেও স্ত্রীকে বা স্বামীকে ডাকা যেতে পারে যদি তা তাদের সংস্কৃতিতে অপমানসূচক না হয় এবং কেউ অপমান বোধ না করে।

আরবের সংস্কৃতিতে স্বামী যেমন স্ত্রীকে নাম ধরে ডাকতো, স্ত্রীও স্বামীকে নাম ধরে ডাকার প্রচলন ছিল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন আল্লাহর রাসুল ইবরাহিম (আ.) তার স্ত্রী হাজেরা এবং শিশু পুত্র ইসমাইলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে তার স্ত্রী তাকে ডেকে বললেন, হে ইবরাহিম, তুমি আমাদের এমন জনমানবহীন উপত্যকায় রেখে কোথায় যাচ্ছ? (সহিহ বুখারি: ৩৩৬৫)

তবে কোনো অঞ্চলের সামাজিক সংস্কৃতিতে স্বামীর নাম ধরে ডাকা সম্মানজনক না হলে এবং স্বামী পছন্দ না করলে নাম ধরে ডাকা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোনো সম্মানজনক শব্দে তাকে ডাকতে হবে।