ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব: গবেষণা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক জনমত নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনের জনপ্রিয়তা দেখা গেল।
গবেষণার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক নাকি খুব নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।

জরিপে দেখা গেছে, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে মাত্র ছয়টি দেশে—পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরাইলে—এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বেশি রয়েছে।

পিউর গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় পতন দেখা গেছে। তবে তখন চীনের জনপ্রিয়তা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল। এবারই প্রথম এত বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলক বেশি, আর উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখা যায়। তবে উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ হয়েও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রতি মতামতের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার প্রশ্নেও জরিপ চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কতটা আস্থা রাখেন। উভয় নেতার ক্ষেত্রেই আস্থার হার তুলনামূলক কম হলেও বেশিরভাগ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন।
শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা, আর সর্বনিম্ন ৭ শতাংশ জাপানে। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে এবং সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সম্মান চীনের তুলনায় বেশি বলে এখনো অনেকেই মনে করেন। তবে এ ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। বিপরীতে চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের দিকে ইতিবাচকভাবে তাকাতে শুরু করেছে।

তবে একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির নেতৃত্ব সম্পর্কে মানুষের আস্থা তুলনামূলক কম বলেই জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

আর্জেন্টিনা এবার চতুর্থ শিরোপা জিততে পারবে না: ক্যাসিয়াস

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব: গবেষণা

আপডেট সময় ০২:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক জনমত নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনের জনপ্রিয়তা দেখা গেল।
গবেষণার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক নাকি খুব নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

জরিপে দেখা গেছে, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে মাত্র ছয়টি দেশে—পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরাইলে—এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বেশি রয়েছে।

পিউর গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় পতন দেখা গেছে। তবে তখন চীনের জনপ্রিয়তা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল। এবারই প্রথম এত বড় ব্যবধানে চীনের পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলক বেশি, আর উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখা যায়। তবে উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ হয়েও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রতি মতামতের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার প্রশ্নেও জরিপ চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কতটা আস্থা রাখেন। উভয় নেতার ক্ষেত্রেই আস্থার হার তুলনামূলক কম হলেও বেশিরভাগ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন।
শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা, আর সর্বনিম্ন ৭ শতাংশ জাপানে। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে এবং সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সম্মান চীনের তুলনায় বেশি বলে এখনো অনেকেই মনে করেন। তবে এ ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। বিপরীতে চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের দিকে ইতিবাচকভাবে তাকাতে শুরু করেছে।

তবে একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়লেও দেশটির নেতৃত্ব সম্পর্কে মানুষের আস্থা তুলনামূলক কম বলেই জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি