ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

নারীদের ইতেকাফের নিয়ম ও মাসায়েল

  • ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • 195

রমজানের শেষ দশ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল ইতেকাফ করা। নবীজি (সা.) প্রতি রমজানেই শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। এরপর তার স্ত্রীগণও (তার সুন্নত অনুসরণ করে রমজানের শেষ দশ দিন) ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন একটি তুর্কি তাবুতে ইতেকাফ করলেন, যার দরজায় একটি চাটাই ছিল। একদিন রাসুল (সা.) চাটাইটি হাতে নিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখলেন, তারপর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন। লোকেরা তার কাছে এগিয়ে গেলো। তিনি বললেন, আমি প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছি এই রাত (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধানের জন্য। এরপর আমি মাঝের দশ দিন ইতেকাফ করেছি। তারপর আমাকে জানানো হয়েছে যে, এটি (লাইলাতুল কদর) শেষ দশকে রয়েছে। তাই আপনাদের মধ্যে যারা ইতেকাফ করতে চান, তারা যেন ইতেকাফ করেন। এরপর লোকেরা তার সাথে ইতেকাফ করল। (সহিহ মুসলিম)

রমজানের শেষ দশকে পুরুষদের মতো নারীরাও মসজিদে ইতেকাফ করতে পারেন যদি নারীদের ইতেকাফ করার জন্য নিরাপদ ও উপযোগী মসজিদ পাওয়া যায়। এ রকম মসজিদ না পাওয়া গেলে নারীরা নিজেদের ঘরের নির্দিষ্ট ইবাদতের কক্ষে ইতেকাফে বসবেন। ইবাদতের নির্দিষ্ট কক্ষ না থাকলে ইতেকাফের জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্ট করে ইতেকাফের নিয়ত করবেন। খাওয়া-দাওয়া ওই কক্ষেই করবেন এবং শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া ওই কক্ষ ছেড়ে অন্যত্র যাবেন না। ইতেকাফের জন্য যথাসম্ভব ছোট কক্ষ নির্ধারণ করা উচিত যা শুধু তার থাকা ও ইবাদতের জন্যই ব্যবহৃত হবে। এ রকম কক্ষ না পাওয়া গেলে বড় ঘরের কিছু জায়গাও নির্দিষ্ট করেও ইতেকাফের নিয়ত করা যায়।

ইতেকাফে বসার পর শরঈ ওজর ছাড়া ইতেকাফের কক্ষ বা জায়গা থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। প্রস্রাব-পায়খানা, অজু ও ফরজ গোসল গ্রহণযোগ্য ওজর; এসব প্রয়োজনে ইতেকাফের জায়গা থেকে বের হওয়া যাবে। ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যাওয়া যাবে। তবে পানাহার ইতেকাফের জায়গায়ই করতে হবে। বাইরে করা যাবে না। ইতেকাফের জায়গায় থেকে রান্না-বান্নার দিক নির্দেশনা দেওয়া যাবে। রান্না-বান্নার লোক না থাকলে ইতেকাফের স্থানে থেকে রান্না -বান্নার কাজ করা সম্ভব হলে করা যাবে। কিন্তু এ সব প্রয়োজনে ইতেকাফের জায়গা থেকে বের হওয়া যাবে না।

ইতেকাফরত অবস্থায় সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইতেকাফে বসার পর সহবাস করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। তাই বিবাহিত নারীদের ইতেকাফে বসার আগে স্বামীর অনুমতি নিয়ে নেওয়া জরুরি। ইতেকাফের অনুমতি দিয়ে দেওয়ার পর স্ত্রীর ইতেকাফে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করার স্বামী কর্তব্য।

ইতেকাফরত অবস্থায় রোজা রাখা জরুরি। কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে রোজা ভেঙে ফেলে বা কোনোভাবে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। যেমন কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। একইভাবে ইচ্ছাকৃত পানাহার, সহবাস বা জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বীর্যস্খলন ঘটানোর কারণে কারো রোজা ভেঙে গেলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। ইতেকাফরত অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নারীদের ইতেকাফের নিয়ম ও মাসায়েল

আপডেট সময় ১২:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষ দশ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল ইতেকাফ করা। নবীজি (সা.) প্রতি রমজানেই শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। এরপর তার স্ত্রীগণও (তার সুন্নত অনুসরণ করে রমজানের শেষ দশ দিন) ইতেকাফ করতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন একটি তুর্কি তাবুতে ইতেকাফ করলেন, যার দরজায় একটি চাটাই ছিল। একদিন রাসুল (সা.) চাটাইটি হাতে নিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখলেন, তারপর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন। লোকেরা তার কাছে এগিয়ে গেলো। তিনি বললেন, আমি প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছি এই রাত (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধানের জন্য। এরপর আমি মাঝের দশ দিন ইতেকাফ করেছি। তারপর আমাকে জানানো হয়েছে যে, এটি (লাইলাতুল কদর) শেষ দশকে রয়েছে। তাই আপনাদের মধ্যে যারা ইতেকাফ করতে চান, তারা যেন ইতেকাফ করেন। এরপর লোকেরা তার সাথে ইতেকাফ করল। (সহিহ মুসলিম)

রমজানের শেষ দশকে পুরুষদের মতো নারীরাও মসজিদে ইতেকাফ করতে পারেন যদি নারীদের ইতেকাফ করার জন্য নিরাপদ ও উপযোগী মসজিদ পাওয়া যায়। এ রকম মসজিদ না পাওয়া গেলে নারীরা নিজেদের ঘরের নির্দিষ্ট ইবাদতের কক্ষে ইতেকাফে বসবেন। ইবাদতের নির্দিষ্ট কক্ষ না থাকলে ইতেকাফের জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্ট করে ইতেকাফের নিয়ত করবেন। খাওয়া-দাওয়া ওই কক্ষেই করবেন এবং শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া ওই কক্ষ ছেড়ে অন্যত্র যাবেন না। ইতেকাফের জন্য যথাসম্ভব ছোট কক্ষ নির্ধারণ করা উচিত যা শুধু তার থাকা ও ইবাদতের জন্যই ব্যবহৃত হবে। এ রকম কক্ষ না পাওয়া গেলে বড় ঘরের কিছু জায়গাও নির্দিষ্ট করেও ইতেকাফের নিয়ত করা যায়।

ইতেকাফে বসার পর শরঈ ওজর ছাড়া ইতেকাফের কক্ষ বা জায়গা থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। প্রস্রাব-পায়খানা, অজু ও ফরজ গোসল গ্রহণযোগ্য ওজর; এসব প্রয়োজনে ইতেকাফের জায়গা থেকে বের হওয়া যাবে। ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যাওয়া যাবে। তবে পানাহার ইতেকাফের জায়গায়ই করতে হবে। বাইরে করা যাবে না। ইতেকাফের জায়গায় থেকে রান্না-বান্নার দিক নির্দেশনা দেওয়া যাবে। রান্না-বান্নার লোক না থাকলে ইতেকাফের স্থানে থেকে রান্না -বান্নার কাজ করা সম্ভব হলে করা যাবে। কিন্তু এ সব প্রয়োজনে ইতেকাফের জায়গা থেকে বের হওয়া যাবে না।

ইতেকাফরত অবস্থায় সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইতেকাফে বসার পর সহবাস করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। তাই বিবাহিত নারীদের ইতেকাফে বসার আগে স্বামীর অনুমতি নিয়ে নেওয়া জরুরি। ইতেকাফের অনুমতি দিয়ে দেওয়ার পর স্ত্রীর ইতেকাফে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করার স্বামী কর্তব্য।

ইতেকাফরত অবস্থায় রোজা রাখা জরুরি। কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে রোজা ভেঙে ফেলে বা কোনোভাবে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। যেমন কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। একইভাবে ইচ্ছাকৃত পানাহার, সহবাস বা জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বীর্যস্খলন ঘটানোর কারণে কারো রোজা ভেঙে গেলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। ইতেকাফরত অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন