ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

নন্দিনী হত্যার ঘটনায় উত্তাল আদিতমারী, ডিসির গাড়িসহ ৭টি যানবাহন ভাঙচুর

ছবি প্রতিনিধি

শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মব সৃষ্টি করে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ফলিমারী গ্রামে। এসপি, ওসিসহ আহত হয়েছে অন্তত ২০জন এবং ডিসি’র গাড়িসহ প্রশাসনের ৭টি গাড়ি ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ী-ঘরে ভাংচুর,আগুনের দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে আসামীকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা।নিহত নন্দিনী কান্ত রায় ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
আটকরা হলেন, ওই এলাকার রণজিৎ কুমার ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র রায় (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে হঠাৎ নন্দিনীকে (৭) খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুজি করেও সন্ধান মেলেনি। সকালেও অনুরুপ ভাবে খোঁজতে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে তার বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর নরম মাটির ওই গর্ত খুড়ে নন্দিনীর বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এরপর স্থানীয় একজন গতকাল সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্র নামে এক যুবককে ওই ভুট্টা ক্ষেত থেকে কোদাল নিয়ে ফিরতে দেখেছিলেন। সেই সন্দেহে তার বাড়িতে যান স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ওই বাড়ি ভাংচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে আত্নগোপনে থাকা বিধানকে আটক করে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিধানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত বিধানকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরা বিচার করার দাবিতে মব সৃষ্টি করে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ঘটনাস্থলে যাওয়া ক্রাইমসিন ইউনিট। একে একে সদর থানা, কালীগঞ্জ থানা, ডিবি থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট, বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় পুরো গ্রাম।

অপরদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে।

তাদেরকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদেরকেও অবরুদ্ধ করা হয়। এভাবে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। এ সময় থেমে থেমে প্রশাসনের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন লাঠি-সোটা দিয়ে হামলা চালায় হাজার,হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা।

অবশেষে ছাউন্ড গ্রেনেড ছুরে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্ত আটক বিধান ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসনের লোকজন। এ সময় শেষ দফায় প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকল ছুরে বিক্ষুব্ধ জনতা। জনতার ছোরা ইটপাটকল ও লাঠির আঘাতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ৭টি গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদক সেবী বিধান চন্দ্র প্রতিবেশি নন্দিনীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ বস্তায় ভড়িয়ে মাটিতে পুতে রাখে। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়িতে বাহির দিয়ে তালা দিয়ে ভিতর আত্নগোপন হন বিধান। সেই বাড়ি বিক্ষুব্ধজনতা ভাংচুর করে বিধানকে আটক করে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। ইটের আঘাতে আমি নিজেও আঘাত পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোরা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারী কাজে বাঁধা দানের ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এ হত্যার সুষ্ট তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধির দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আপাতত ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

পরীমনি ইস্যুতে বিতর্কিত এডিসি সাকলায়েনকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে

নন্দিনী হত্যার ঘটনায় উত্তাল আদিতমারী, ডিসির গাড়িসহ ৭টি যানবাহন ভাঙচুর

আপডেট সময় ০৫:২৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মব সৃষ্টি করে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ফলিমারী গ্রামে। এসপি, ওসিসহ আহত হয়েছে অন্তত ২০জন এবং ডিসি’র গাড়িসহ প্রশাসনের ৭টি গাড়ি ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ী-ঘরে ভাংচুর,আগুনের দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে আসামীকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা।নিহত নন্দিনী কান্ত রায় ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
আটকরা হলেন, ওই এলাকার রণজিৎ কুমার ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র রায় (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে হঠাৎ নন্দিনীকে (৭) খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুজি করেও সন্ধান মেলেনি। সকালেও অনুরুপ ভাবে খোঁজতে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে তার বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর নরম মাটির ওই গর্ত খুড়ে নন্দিনীর বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এরপর স্থানীয় একজন গতকাল সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্র নামে এক যুবককে ওই ভুট্টা ক্ষেত থেকে কোদাল নিয়ে ফিরতে দেখেছিলেন। সেই সন্দেহে তার বাড়িতে যান স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ওই বাড়ি ভাংচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে আত্নগোপনে থাকা বিধানকে আটক করে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিধানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত বিধানকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরা বিচার করার দাবিতে মব সৃষ্টি করে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ঘটনাস্থলে যাওয়া ক্রাইমসিন ইউনিট। একে একে সদর থানা, কালীগঞ্জ থানা, ডিবি থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট, বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় পুরো গ্রাম।

অপরদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে।

তাদেরকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদেরকেও অবরুদ্ধ করা হয়। এভাবে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। এ সময় থেমে থেমে প্রশাসনের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন লাঠি-সোটা দিয়ে হামলা চালায় হাজার,হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা।

অবশেষে ছাউন্ড গ্রেনেড ছুরে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্ত আটক বিধান ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসনের লোকজন। এ সময় শেষ দফায় প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকল ছুরে বিক্ষুব্ধ জনতা। জনতার ছোরা ইটপাটকল ও লাঠির আঘাতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ৭টি গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদক সেবী বিধান চন্দ্র প্রতিবেশি নন্দিনীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ বস্তায় ভড়িয়ে মাটিতে পুতে রাখে। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়িতে বাহির দিয়ে তালা দিয়ে ভিতর আত্নগোপন হন বিধান। সেই বাড়ি বিক্ষুব্ধজনতা ভাংচুর করে বিধানকে আটক করে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। ইটের আঘাতে আমি নিজেও আঘাত পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোরা হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারী কাজে বাঁধা দানের ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এ হত্যার সুষ্ট তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধির দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আপাতত ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।