ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম, বন্যার শঙ্কা বাড়ছে

ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চল।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ও ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে।

নদীপাড়ের মানুষ ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত থেকে বাড়তে থাকে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। ফলে তিস্তার উভয় পাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

তিস্তার পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যায় ডুবেছে।
এর মধ্যে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোঁচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গবাদিপশু, বৃদ্ধ, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। ঘরের ভেতর বিছানায় মাচাং বানিয়ে সারাদিনের রান্না একবারেই করছেন গৃহকর্মীরা। কেউ কেউ পাশের উঁচু রাস্তার বাঁধে চুলা বসিয়ে রান্না করে নিচ্ছেন। বাঁধ আর রাস্তার পাশে পলিথিনের তাবু টাঙিয়ে রাখা হচ্ছে সন্তানতুল্য গবাদিপশুগুলোকে। সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি পরিবারের নারীরা।

তিস্তাপাড়ের গোবর্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে হু হু করে বাড়ছে পানি। চরাঞ্চলের প্রায় বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির কারণে সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। গরু-ছাগলের খাদ্য ও রাখার মতো শুকনো জায়গা মিলছে না।

উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের জুয়েল বলেন, রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। আমাদের গ্রামের সব বাড়িতে হাঁটু বা কোমর পানি। রান্না করা, খাওয়া, থাকা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতে ঘুমাতে পারিনি। কখন যে পানিতে কে পড়ে যায়, আতঙ্কে থাকি বাচ্চাদের নিয়ে।

মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, রাত থেকে তিস্তা নদীতে পানি বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। সকাল ৬টা থেকে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢলে পানির চাপ কিছুটা বেশি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ ইউরোপ ইউরোপা লিগ, দ্বিতীয় বাছাইপর্বের পরিসংখ্যান ও লাইভ স্কোর

দিঘলিয়ায় জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা ও ঋষিপড়া পানিবন্দিদের পাশে এমপি আজিজুল বারী হেলাল

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম, বন্যার শঙ্কা বাড়ছে

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চল।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ও ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে।

নদীপাড়ের মানুষ ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত থেকে বাড়তে থাকে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে। ফলে তিস্তার উভয় পাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

তিস্তার পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যায় ডুবেছে।
এর মধ্যে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোঁচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গবাদিপশু, বৃদ্ধ, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। ঘরের ভেতর বিছানায় মাচাং বানিয়ে সারাদিনের রান্না একবারেই করছেন গৃহকর্মীরা। কেউ কেউ পাশের উঁচু রাস্তার বাঁধে চুলা বসিয়ে রান্না করে নিচ্ছেন। বাঁধ আর রাস্তার পাশে পলিথিনের তাবু টাঙিয়ে রাখা হচ্ছে সন্তানতুল্য গবাদিপশুগুলোকে। সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি পরিবারের নারীরা।

তিস্তাপাড়ের গোবর্ধন গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে হু হু করে বাড়ছে পানি। চরাঞ্চলের প্রায় বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির কারণে সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। গরু-ছাগলের খাদ্য ও রাখার মতো শুকনো জায়গা মিলছে না।

উত্তর ডাউয়ামারী গ্রামের জুয়েল বলেন, রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। আমাদের গ্রামের সব বাড়িতে হাঁটু বা কোমর পানি। রান্না করা, খাওয়া, থাকা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতে ঘুমাতে পারিনি। কখন যে পানিতে কে পড়ে যায়, আতঙ্কে থাকি বাচ্চাদের নিয়ে।

মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, রাত থেকে তিস্তা নদীতে পানি বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। সকাল ৬টা থেকে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢলে পানির চাপ কিছুটা বেশি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।