ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়: একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মামলার আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- সাইফুর রহমান। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্কর। অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে খালাসপ্রাপ্ত চার আসামির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আদালতের পিপি বদরুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা অনেক প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করা হয়েছিল।
এদিকে ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি সাক্ষী দেয়নি। এমনকি ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

মামলার এজাহার ও বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী তার স্বামীর সাথে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপারণ মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে তার স্বামী পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় ৫-৬ জন তরুণ এসে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়।

সেখানে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা। পরবর্তীতে দম্পতিটির টাকা-পয়সা ও ব্যবহৃত গাড়িটি রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় শুরুতে ছাত্রাবাসে প্রবেশে পুলিশ গড়িমসি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন ৮ জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‍্যাব। পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে ছয়জনের সরাসরি ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায়।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অভিযুক্ত ৮ জনকেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে। এছাড়া ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর ও রনিকে আসামি করে পৃথক আরেকটি অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার এবং ২০২২ সালের মে মাসে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচার কাজ ঝুলে থাকায় এবং দুই মামলার বিচার একসাথে চালানোর দাবিতে বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা দুটি একসাথে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর গত বছরের মে মাসে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী তরুণী, তার স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায়: একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মামলার আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- সাইফুর রহমান। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্কর। অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে খালাসপ্রাপ্ত চার আসামির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আদালতের পিপি বদরুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা অনেক প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করা হয়েছিল।
এদিকে ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি সাক্ষী দেয়নি। এমনকি ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

মামলার এজাহার ও বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী তার স্বামীর সাথে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপারণ মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে তার স্বামী পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় ৫-৬ জন তরুণ এসে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়।

সেখানে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা। পরবর্তীতে দম্পতিটির টাকা-পয়সা ও ব্যবহৃত গাড়িটি রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় শুরুতে ছাত্রাবাসে প্রবেশে পুলিশ গড়িমসি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন ৮ জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‍্যাব। পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে ছয়জনের সরাসরি ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায়।
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অভিযুক্ত ৮ জনকেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে। এছাড়া ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর ও রনিকে আসামি করে পৃথক আরেকটি অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার এবং ২০২২ সালের মে মাসে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিচার কাজ ঝুলে থাকায় এবং দুই মামলার বিচার একসাথে চালানোর দাবিতে বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা দুটি একসাথে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর গত বছরের মে মাসে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী তরুণী, তার স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন আদালত।