লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ভুট্টা ক্ষেত থেকে নন্দিনী নামের (৭) বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলায় পিতা-পুত্রকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছেন থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে নন্দিনীর বাবা নলিনী বর্মন বাদী হয়ে ৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেফতার পিতা-পুত্র ছাড়াও বিধান চন্দ্রের মা মমতা রাণীকে আসামী করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেনঃ উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের রণজিৎ চন্দ্র বর্মণ (৪৮) ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণ ((২৫)।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করেছেন বলে সদ্য যোগদানকারী ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। আর দায়িত্ব অবহেলার কারণে ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে পিতা-পুত্রকে আটক করেন পুলিশ। আটককৃত দুজনকে পুলিশ হেফাজতে আনতে গিয়ে পুলিশ-বিজিবি ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এসময় ডিসি ও এসপির গাড়ীসহ সরকারী ৭টি গাড়ী ভাংচুর করা হয়। এতে পুলিশ সুপারসহ আহত হন কমপক্ষে ১৬ জন।
এ ঘটনার পর থেকে ঐ হাট-বাজার ও বাড়ীতে পুরুষ শুন্য থাকতে দেখাগেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) আবু সাঈদ তুহিন সাংকাদিককে জানান, শিশু নন্দিনীকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাকি একজন আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব জানান, সরকারী কাজে বাধা, প্রশাসন ও পুলিশের গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৫ জুন) প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী নন্দিনী রাণী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন উপজেলায় ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী বিধান চন্দ্র বর্মণের বাড়ীঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 

























