আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর প্রভাবে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩০ ডলার ৪০ সেন্টে।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে—এমন তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছায়।
তবে বুধবার তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব সমুদ্রবন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেন এবং তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দেন। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওআন্ডার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওয়ং বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন মূল্যস্ফীতির তথ্যের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে, আর এর চাপ পড়ছে স্বর্ণের বাজারে।
সাধারণভাবে স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হলে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের শীর্ষ কর্মকর্তারা জুনের মূল্যস্ফীতির তথ্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে কমছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও অনুকূল তথ্যের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন।
বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযোজক মূল্যসূচকের (পিপিআই) তথ্যের দিকে। এই তথ্য ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ ডলার ১৮ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৮ ডলার ৬ সেন্ট হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১১ ডলার ৮৪ সেন্টে উঠেছে।
অনলাইন ডেস্ক : 
























