ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ১ কোটি গণস্বাক্ষর

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবিতে করা অনলাইন পিটিশনে (গণস্বাক্ষর কর্মসূচি) মাত্র কয়েক দিনেই ১০ মিলিয়নের (১ কোটি) বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব সিক্সটিন) ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে দলটির বিতর্কির জয়ের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমিদের মধ্যে সৃষ্ট ব্যাপক জনরোষের প্রতিফলন হিসেব দেখা হচ্ছে এই নজিরবিহীন ঘটনাকে।

‘আর্জেন্টিনাআউট ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই আবেদনপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি অন্যান্য সুবিধা পেয়েছে। পিটিশনটিতে দাবি করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রচ্ছন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে।

অনলাইন পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘এটা এখন দিবালোাকের মতো স্পষ্ট যে, ফিরা ও রেফারিরা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট। যখন বিজয়ী কে হবে তা ইতোমধ্যেই পর্দার আড়ালে নির্ধারিত হয়ে গেছে, তখন বাকি বিশ্ব কেন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন। বাকি দলগুলোকে ন্যায্য ও সমান সুযোগ দিন।’

এর আগে শেষ ষোলোর এক নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

উত্তেজনায় ঠাসা ওই ম্যাচটিতে রেফারির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণের শুরুতেই ফাউল হয়েছে, এমন একটি অভিযোগ তুলে দীর্ঘক্ষণ ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পর্যালোচনার পর মিশরের একটি নিশ্চিত তৃতীয় গোল বাতিল ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা।

এর কিছুক্ষণ পর, অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার করা জয়সূচক গোলটি কোনো ধরনের ভিএআর পর্যালোচনা ছাড়াই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। মিশরের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হয়েছিল। তাদের দাবি, আর্জেন্টিনার ম্যাচজয়ী ওই পাল্টা আক্রমণের পরিবর্তে নিয়ম অনুযায়ী মিশরের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল।

এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর জেরে ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি আমার সত্য মতামত জানাব। এটা যে একটা পাতানো খেলা ছিল, তা স্পষ্ট এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত ও টেলিভিশনের সামনে থাকা সবাই তা দেখেছে।’

ফিফাকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি আর্জেন্টিনাকে জেতাতে এতই আগ্রহী হয়, তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাকি বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানানোর কী দরকার ছিল?’

কোচ হোসাম হাসান ফেয়ার প্লে-র নীতি সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি ফিফাকে অভিযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, এই ম্যাচ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কাছে ইতোমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, এখন ভিএআরসহ আধুনিক প্রযুক্তি থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দলকে সুবিধা দেওয়া খুবই কঠিন।

স্কালোনির বলেন, ‘১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে। তাই এসব অভিযোগ আমাদের জন্য নতুন নয়।’

মিশরের বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোলের আগে যে ফাউল হয়েছিল, সেটি খেলার আইন অনুযায়ী ভিএআর পর্যালোচনার আওতায় পড়ে। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

তবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অনলাইনে একটি পিটিশন ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। সংস্থাটি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয়নি। এই বিতর্কের কারণে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আরও বেশি নজরদারির মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ১ কোটি গণস্বাক্ষর

বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ১ কোটি গণস্বাক্ষর

আপডেট সময় ১১:০০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবিতে করা অনলাইন পিটিশনে (গণস্বাক্ষর কর্মসূচি) মাত্র কয়েক দিনেই ১০ মিলিয়নের (১ কোটি) বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব সিক্সটিন) ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে দলটির বিতর্কির জয়ের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমিদের মধ্যে সৃষ্ট ব্যাপক জনরোষের প্রতিফলন হিসেব দেখা হচ্ছে এই নজিরবিহীন ঘটনাকে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

‘আর্জেন্টিনাআউট ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই আবেদনপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি অন্যান্য সুবিধা পেয়েছে। পিটিশনটিতে দাবি করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রচ্ছন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে।

অনলাইন পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘এটা এখন দিবালোাকের মতো স্পষ্ট যে, ফিরা ও রেফারিরা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট। যখন বিজয়ী কে হবে তা ইতোমধ্যেই পর্দার আড়ালে নির্ধারিত হয়ে গেছে, তখন বাকি বিশ্ব কেন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন। বাকি দলগুলোকে ন্যায্য ও সমান সুযোগ দিন।’

এর আগে শেষ ষোলোর এক নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

উত্তেজনায় ঠাসা ওই ম্যাচটিতে রেফারির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণের শুরুতেই ফাউল হয়েছে, এমন একটি অভিযোগ তুলে দীর্ঘক্ষণ ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পর্যালোচনার পর মিশরের একটি নিশ্চিত তৃতীয় গোল বাতিল ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা।

এর কিছুক্ষণ পর, অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার করা জয়সূচক গোলটি কোনো ধরনের ভিএআর পর্যালোচনা ছাড়াই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। মিশরের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হয়েছিল। তাদের দাবি, আর্জেন্টিনার ম্যাচজয়ী ওই পাল্টা আক্রমণের পরিবর্তে নিয়ম অনুযায়ী মিশরের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল।

এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর জেরে ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি আমার সত্য মতামত জানাব। এটা যে একটা পাতানো খেলা ছিল, তা স্পষ্ট এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত ও টেলিভিশনের সামনে থাকা সবাই তা দেখেছে।’

ফিফাকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি আর্জেন্টিনাকে জেতাতে এতই আগ্রহী হয়, তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাকি বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানানোর কী দরকার ছিল?’

কোচ হোসাম হাসান ফেয়ার প্লে-র নীতি সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি ফিফাকে অভিযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, এই ম্যাচ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কাছে ইতোমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, এখন ভিএআরসহ আধুনিক প্রযুক্তি থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দলকে সুবিধা দেওয়া খুবই কঠিন।

স্কালোনির বলেন, ‘১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে। তাই এসব অভিযোগ আমাদের জন্য নতুন নয়।’

মিশরের বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোলের আগে যে ফাউল হয়েছিল, সেটি খেলার আইন অনুযায়ী ভিএআর পর্যালোচনার আওতায় পড়ে। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

তবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অনলাইনে একটি পিটিশন ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। সংস্থাটি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেয়নি। এই বিতর্কের কারণে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আরও বেশি নজরদারির মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।