ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল ভরাট করতে গিয়ে আ.লীগ নেতা আটক

বাঁশখালীতে খালে বাঁধ নির্মাণ ও মাটি কাটার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর রহমান (পাঞ্জাবি গায়ে)। ছবি: সংগৃহীত

ট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা আদর্শ গ্রাম খালের দুইটি মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের সময় শফিকুর রহমান (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতেনাতে আটক করে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভরাট করা খালের মাটি নিজ খরচে ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন।

এদিকে অভিযানের পর রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু করে সোমবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা নিজ খরচে বাঁধ অপসারণ ও খালের মাটি পুনরায় ভরাট করে দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর রহমান বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চেচুরিয়া এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, ১৯৭৭-৭৮ সালে বাঁশখালীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা একমাত্র খাল হচ্ছে চেচুরিয়ার এই খালটি। এই খাল দিয়ে বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি জলকদর খাল হয়ে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হওয়া বৈলছড়ি ইউনিয়নের একমাত্র সচল এই খালটিতে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাধ নির্মাণ করে মাছ চাষের পরিকল্পনা করে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। একদিকে ভরাট অন্যদিকে খাল খনন করে খালটি এক প্রকার জবরদখল করে নেন ওই প্রভাবশালী। এমনকি খালের উভয় পাড়ের বেশ কিছু খাস জায়গাও জবরদখল করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শফিকুর।
খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিমও অংশ নেয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা অবস্থায় এক্সকেভেটরসহ শফিকুর রহমান ও তার লোকজনকে দেখতে পাই। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শফিকুর রহমানকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তিনি দোষ স্বীকার করলে উক্ত অপরাধে চেচুরিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুর রহমানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করার পাশাপাশি ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানান, ওই আওয়ামী লীগ নেতা খালের কথা গোপন রেখে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই তিনি খালে বাঁধ দেন এবং উভয় পাশের মাটি কেটে বিক্রি করে দেন। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সোমবার নিজ উদ্যোগ বাঁধ অপসারণ ও কেটে ফেলা মাটি আবার ভরাট করে দিয়েছেন। বাঁধ অপসারণ ও ভরাটের সময় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ ইউরোপ ইউরোপা লিগ, দ্বিতীয় বাছাইপর্বের পরিসংখ্যান ও লাইভ স্কোর

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

জিয়াউর রহমানের খনন করা খাল ভরাট করতে গিয়ে আ.লীগ নেতা আটক

আপডেট সময় ০৯:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা আদর্শ গ্রাম খালের দুইটি মুখ অবরুদ্ধ করে বাঁধ নির্মাণ ও খাল ভরাটের সময় শফিকুর রহমান (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতেনাতে আটক করে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভরাট করা খালের মাটি নিজ খরচে ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

এদিকে অভিযানের পর রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু করে সোমবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা নিজ খরচে বাঁধ অপসারণ ও খালের মাটি পুনরায় ভরাট করে দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর রহমান বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চেচুরিয়া এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, ১৯৭৭-৭৮ সালে বাঁশখালীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা একমাত্র খাল হচ্ছে চেচুরিয়ার এই খালটি। এই খাল দিয়ে বৈলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি জলকদর খাল হয়ে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হওয়া বৈলছড়ি ইউনিয়নের একমাত্র সচল এই খালটিতে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাধ নির্মাণ করে মাছ চাষের পরিকল্পনা করে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। একদিকে ভরাট অন্যদিকে খাল খনন করে খালটি এক প্রকার জবরদখল করে নেন ওই প্রভাবশালী। এমনকি খালের উভয় পাড়ের বেশ কিছু খাস জায়গাও জবরদখল করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শফিকুর।
খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিমও অংশ নেয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ওমর সানী আকন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা অবস্থায় এক্সকেভেটরসহ শফিকুর রহমান ও তার লোকজনকে দেখতে পাই। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শফিকুর রহমানকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তিনি দোষ স্বীকার করলে উক্ত অপরাধে চেচুরিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুর রহমানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করার পাশাপাশি ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানান, ওই আওয়ামী লীগ নেতা খালের কথা গোপন রেখে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই তিনি খালে বাঁধ দেন এবং উভয় পাশের মাটি কেটে বিক্রি করে দেন। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর সোমবার নিজ উদ্যোগ বাঁধ অপসারণ ও কেটে ফেলা মাটি আবার ভরাট করে দিয়েছেন। বাঁধ অপসারণ ও ভরাটের সময় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন