ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

বিয়ের দাওয়াতে ‘টাকা তোলা’ কি জায়েজ? জানুন ইসলামের কথা

শায়খ আহমাদুল্লাহ

বিয়ে বাড়িতে খাওয়ার পর টাকা তোলার জন্য টেবিল বসানো শরীয়তের দৃষ্টিতে এক প্রকারের ডাকাতি বা চাঁদাবাজি। এর সাথে পিস্তল নিয়ে ডাকাতি করার কোনো তফাত নেই; পার্থক্য শুধু একটিতে থাকে পিস্তল আর অন্যটিতে থাকে খাতা-কলম। বিয়ে বা আকিকার দাওয়াত শুনলে এখন অনেকেরই মনে কষ্ট জাগে। পাঁচশো বা আটশো টাকার খানা খেয়ে বিনিময়ে দুই হাজার টাকা দিয়ে আসার এই কারবার একটি লস প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। রেস্টুরেন্টেও তো খাওয়ার পর বিল পরিশোধ করা হয়, কিন্তু এখানে ঢোকার আগেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। বিয়ের নামে বা আকিকার নামে এই চাঁদাবাজি সমাজ থেকে অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।

বিয়ে উপলক্ষে শরিয়তসম্মত এবং অনুমোদিত খাওয়ার আয়োজন হলো কেবল ‘ওলিমা’, যা পাত্রপক্ষের আয়োজন করার কথা। অথচ সমাজে মেয়েদের বাড়িতে বরযাত্রী যাওয়ার যে রেওয়াজ রয়েছে, তাকে যথার্থই ‘বদযাত্রী’ বলা চলে। ছোটবেলা থেকে তিল তিল করে একটি মেয়েকে লালন-পালন করে পড়ালেখা করিয়ে বড় করার পর যখন তার সেবা নেওয়ার সময় আসে, তখন হুট করে সেই মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে তিনশ মানুষকে খাওয়াতে হবে। এটি মূলত জুলুমের ওপর চরম জুলুম। একজন মানুষ অন্যের গড়া একটি জীবন নিয়ে আসলেন, সামান্য কিছু মোহরানা প্রদান করে সারা জীবনের অর্জন নিজের ঘরে তুলে নিলেন—এই খুশিতে এলাকাবাসী বা আত্মীয়দের বরপক্ষ খাওয়াবে, এটাই তো স্বাভাবিক ও সুন্নাহসম্মত।

যুবকদের উচিত এখনই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, বিয়েতে আল্লাহ তাআলার তওফিক অনুযায়ী নিজের পক্ষ থেকে কম-বেশি সাধ্যমতো খাওয়াবেন, কিন্তু মেয়ের বাবার বাড়িতে কোনো ধরনের খাবারের বায়না বা আবদার করবেন না।

অবশ্য পারিবারিক বা সামাজিক চাপে অনেক সময় ছেলেরা বাড়িতে কথা তুলতে গেলেই মা-বাবা কান্নাকাটি শুরু করে দেন। এ ধরনের সামাজিক অনাচার ভাঙতে মা-বাবাকে আলেম-ওলামাদের বয়ান শোনানো উচিত এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহুরে সমাজে বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া নিয়ে যে বার্গেনিং বা দরকষাকষি চলে, তা চরম লজ্জাজনক। কয়জন খাদক নিয়ে যাওয়া হবে তা নিয়ে কিসের এত হিসাব-নিকাশ? এ ধরনের কালচার কোনো ভদ্র সমাজে থাকতে পারে না।

বাংলাদেশে যৌতুকের প্রবণতা হ্রাসের পেছনে আলেম-ওলামাদের অবদান প্রায় আশির শতাংশ। প্রশাসন বা আইন দিয়ে যা সহজে করা যায় না, ওলামায়ে কেরামের ওয়াজ-নসিহত তা খুব দ্রুত করতে পারে। মেয়ের বাবার কাছে বরযাত্রী বা মেহমানদের জন্য খাবার চাওয়া যৌতুকের চেয়েও বহুগুণ নিকৃষ্ট এক চাঁদাবাজি। চিংড়ি মাছের সাইজ ছোট হলে বা রান্নায় ত্রুটি পেলে প্যান্ডেলে ভাঙচুর চালানোর মতো ছোটলোকি মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

নিজের বিয়েতে দশজন মানুষের যাওয়াকেও অতিরিক্ত মনে করে বর ও তাঁর পিতাকে নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নজির স্থাপন করতে হবে। নিজের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে স্ত্রীর পিতৃালয়ে নিয়ে হাজির করে তাদের মেহমানদারির দায়িত্ব শ্বশুরবাড়ির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। বিয়ের দাওয়াত পেলে প্রথমে খোঁজ নেওয়া উচিত সেটি ‘বদযাত্রী’র দাওয়াত নাকি ‘ওলিমা’র দাওয়াত। বদযাত্রীর নামে মেয়ের বাবার ওপর এই অন্যায্য জুলুম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অবশ্য কোনো মেয়ের বাবার যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং অতিরিক্ত সচ্ছলতার কারণে মেহমানদের খাওয়ানোর প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে সেটা ব্যতিক্রম হতে পারে। কিন্তু যখন এটি সামাজিক কুসংস্কারে রূপ নেয়, তখন গরিব মানুষকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে বা ঋণ করে হলেও সেই টাকা জোগাড় করতে হয়। তাই সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল মানুষদেরও উচিত এই প্রথা জোরালোভাবে এড়িয়ে চলা। এই সামাজিক অনাচার ও অন্যায় প্রথা চিরতরে দূর করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
বিজ্ঞাপন

সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

জন–আস্থা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বিয়ের দাওয়াতে ‘টাকা তোলা’ কি জায়েজ? জানুন ইসলামের কথা

আপডেট সময় ১১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শায়খ আহমাদুল্লাহ

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বিয়ে বাড়িতে খাওয়ার পর টাকা তোলার জন্য টেবিল বসানো শরীয়তের দৃষ্টিতে এক প্রকারের ডাকাতি বা চাঁদাবাজি। এর সাথে পিস্তল নিয়ে ডাকাতি করার কোনো তফাত নেই; পার্থক্য শুধু একটিতে থাকে পিস্তল আর অন্যটিতে থাকে খাতা-কলম। বিয়ে বা আকিকার দাওয়াত শুনলে এখন অনেকেরই মনে কষ্ট জাগে। পাঁচশো বা আটশো টাকার খানা খেয়ে বিনিময়ে দুই হাজার টাকা দিয়ে আসার এই কারবার একটি লস প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। রেস্টুরেন্টেও তো খাওয়ার পর বিল পরিশোধ করা হয়, কিন্তু এখানে ঢোকার আগেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। বিয়ের নামে বা আকিকার নামে এই চাঁদাবাজি সমাজ থেকে অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।

বিয়ে উপলক্ষে শরিয়তসম্মত এবং অনুমোদিত খাওয়ার আয়োজন হলো কেবল ‘ওলিমা’, যা পাত্রপক্ষের আয়োজন করার কথা। অথচ সমাজে মেয়েদের বাড়িতে বরযাত্রী যাওয়ার যে রেওয়াজ রয়েছে, তাকে যথার্থই ‘বদযাত্রী’ বলা চলে। ছোটবেলা থেকে তিল তিল করে একটি মেয়েকে লালন-পালন করে পড়ালেখা করিয়ে বড় করার পর যখন তার সেবা নেওয়ার সময় আসে, তখন হুট করে সেই মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে তিনশ মানুষকে খাওয়াতে হবে। এটি মূলত জুলুমের ওপর চরম জুলুম। একজন মানুষ অন্যের গড়া একটি জীবন নিয়ে আসলেন, সামান্য কিছু মোহরানা প্রদান করে সারা জীবনের অর্জন নিজের ঘরে তুলে নিলেন—এই খুশিতে এলাকাবাসী বা আত্মীয়দের বরপক্ষ খাওয়াবে, এটাই তো স্বাভাবিক ও সুন্নাহসম্মত।

যুবকদের উচিত এখনই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, বিয়েতে আল্লাহ তাআলার তওফিক অনুযায়ী নিজের পক্ষ থেকে কম-বেশি সাধ্যমতো খাওয়াবেন, কিন্তু মেয়ের বাবার বাড়িতে কোনো ধরনের খাবারের বায়না বা আবদার করবেন না।

অবশ্য পারিবারিক বা সামাজিক চাপে অনেক সময় ছেলেরা বাড়িতে কথা তুলতে গেলেই মা-বাবা কান্নাকাটি শুরু করে দেন। এ ধরনের সামাজিক অনাচার ভাঙতে মা-বাবাকে আলেম-ওলামাদের বয়ান শোনানো উচিত এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহুরে সমাজে বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া নিয়ে যে বার্গেনিং বা দরকষাকষি চলে, তা চরম লজ্জাজনক। কয়জন খাদক নিয়ে যাওয়া হবে তা নিয়ে কিসের এত হিসাব-নিকাশ? এ ধরনের কালচার কোনো ভদ্র সমাজে থাকতে পারে না।

বাংলাদেশে যৌতুকের প্রবণতা হ্রাসের পেছনে আলেম-ওলামাদের অবদান প্রায় আশির শতাংশ। প্রশাসন বা আইন দিয়ে যা সহজে করা যায় না, ওলামায়ে কেরামের ওয়াজ-নসিহত তা খুব দ্রুত করতে পারে। মেয়ের বাবার কাছে বরযাত্রী বা মেহমানদের জন্য খাবার চাওয়া যৌতুকের চেয়েও বহুগুণ নিকৃষ্ট এক চাঁদাবাজি। চিংড়ি মাছের সাইজ ছোট হলে বা রান্নায় ত্রুটি পেলে প্যান্ডেলে ভাঙচুর চালানোর মতো ছোটলোকি মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

নিজের বিয়েতে দশজন মানুষের যাওয়াকেও অতিরিক্ত মনে করে বর ও তাঁর পিতাকে নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নজির স্থাপন করতে হবে। নিজের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে স্ত্রীর পিতৃালয়ে নিয়ে হাজির করে তাদের মেহমানদারির দায়িত্ব শ্বশুরবাড়ির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। বিয়ের দাওয়াত পেলে প্রথমে খোঁজ নেওয়া উচিত সেটি ‘বদযাত্রী’র দাওয়াত নাকি ‘ওলিমা’র দাওয়াত। বদযাত্রীর নামে মেয়ের বাবার ওপর এই অন্যায্য জুলুম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অবশ্য কোনো মেয়ের বাবার যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং অতিরিক্ত সচ্ছলতার কারণে মেহমানদের খাওয়ানোর প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে সেটা ব্যতিক্রম হতে পারে। কিন্তু যখন এটি সামাজিক কুসংস্কারে রূপ নেয়, তখন গরিব মানুষকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে বা ঋণ করে হলেও সেই টাকা জোগাড় করতে হয়। তাই সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল মানুষদেরও উচিত এই প্রথা জোরালোভাবে এড়িয়ে চলা। এই সামাজিক অনাচার ও অন্যায় প্রথা চিরতরে দূর করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
বিজ্ঞাপন

সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল