বিশ্বকাপের প্রথম থেকে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব থেকে একে একে প্রতিপক্ষকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে দলটি উঠে আসে সেমিফাইনালে। আধুনিক কলাকৌশলের অধিকারী কোচ দিদিয়ের দেশমের পরিচালনায় একঝাঁক দুর্ধর্ষ ফুটবলার। কিলিয়ান এমবাপে, ওসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে কিংবা দেজিরে দুয়েদের নিয়ে দুর্দান্ত একটি দল। যেভাবে গতি আর কৌশলী ফুটবলের প্রদর্শণী করছিলো ফ্রান্স, তাতে তাদেরকে চোখ বন্ধ করে ফাইনালেই দেখছিলো সবাই।
সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুরু হয়েছিল ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যাত্রা। এরপর ইরাককে ৩-০ এবং নরওয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফরাসীরা আই গ্রুপ থেকে শীর্ষে থেকে উঠে আসে রাউন্ড অব -৩২ এ। যেখানে তারা মুখোমুখি হয় সুইডেনের।
ভিক্টর গিয়োকেরেস, আলেকজান্ডার ইসাকসহ একঝাঁক তারকা ফুটবলারে সাজানো সুইডেনকে দাঁড়াতে দেয়নি ফ্রান্স। ৩-০ গোলে তাদেরকে হারিয়ে উঠে আসে শেষ ষোলোয়। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলো লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়েকে। এমবাপের একমাত্রে গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে উঠে আসলো কোয়ার্টার ফাইনালে।
বিশ্বকাপে চমক দেখানো আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কোকে পেলো কোয়ার্টার ফাইনালে। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনারের পূনরাবৃত্তি ছিল যেন এই ম্যাচ। কিলিয়ান এমবাপে এবং ওসমান ডেম্বেলের গোলে এই ম্যাচে মরক্কোকে তারা হারায় ২-০ ব্যবধানে। উঠলো সেমিফাইনালে। যেখানে প্রতিপক্ষ স্পেন।
কিলিয়ান এমবাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল করে বিশ্বকাপে তার সংখ্যাটা নিয়ে গিয়েছিলেন ৮ – এ। সব মিলিয়ে ২০ গোল করে দৌড়াচ্ছিলেন লিওনেল মেসির পেছনে। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ওসমান ডেম্বেলে জানান দিয়েছিলেন তিনি কেন ব্যালন ডি’অর জয়ী। কিভাবে তিনি পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন করালেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। এছাড়া অপ্রতিরোধ্য বায়ার্ন মিউনিখের অংশ মাইকেল ওলিসে ফ্রান্স দলটিকে ভয়ঙ্কর হিসেবেই উপস্থাপন করছিলো সবার সামনে।
স্পেন দল খুব গোছানো। সুন্দর ফুটবল খেলে। তবে সবাই ধরে নিয়েছিল, ফ্রান্সের যে গতি আর দারুণ টেকনিক্যাল- তাতে স্পেন টিকতে পারবে না এমবাপেদের সামনে। ফ্রান্স ফুটবলারদের মনেও আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল খুব বেশি। নিজেদের ব্যাপারে অতি আত্মবিশ্বাসই হয়তো ফরাসীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই ম্যাচে। টুর্নামেন্টে একটা ম্যাচই তারা খারাপ খেললো, যেটা সেমিফাইনালে এসে।
কিলিয়ান এমবাপে এবং ওসমান ডেম্বেলেকে কোনোভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এমবাপে যাও দু-একটা শট নিয়েছিলো, ডেম্বেলেকে তো দেখাই যায়নি। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যেভাবে এমবাপে এবং ডেম্বেলেকে আটকানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, তাতে তিনি পুরোপুরি সফল। পাও কুবার্সি আর আয়েমেরিক লাপোর্তেকে ফাঁকি দিয়ে তারা বল নিয়েই ঢুকতে পারেননি স্পেনের বক্সে। যে কারণে গোল হওয়ার মত, প্রতিপক্ষকে তটস্থ করার মতো কোনো শটই নিতে পারেনি ফরাসীরা। উল্টো দুটো সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্রান্সকে বিদায় করে দিলো স্পেন।
ফ্রান্স কোচ ম্যাচ শেষে নিজেদের হতাশার কথা ঢাকতে পারেননি। তারা হয়তো ভাবতেই পারেনি, এভাবে হেরে যাবে। দিদিয়ের দেশম বলেছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা বিধ্বস্ত। তবে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে- প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা স্পেনের চেয়ে পিছিয়েছিলাম। এটা আমাদেরই দোষ।’
স্পেন যে ক্যালকুলেটিভ খেলা খেলেছে, সেখানে পিছিয়ে ছিলো ফ্রান্স। এটাই স্বীকার করে নিলেন দেশম। তিনি আরও বলেন, ‘এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল, তাই হারটা খুব কষ্ট দিচ্ছে। এখন আমাদের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে। তবে এটাও বলতে হবে, এই ম্যাচে স্পেন আমাদের চেয়ে বাড়তি কিছু দেখিয়েছে।’
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন এভাবে হেরে ভেঙে যাবে, তা ম্যাচের আগে ভাবতেই পারেননি কিলিয়ান এমবাপেরা। তাই তো, ম্যাচ শেষে অবিশ্বাসভরা তাদের চাহনিই সেটা বলে দিচ্ছিলো।
স্পোর্টস ডেস্ক 



























