লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের খেদাবাগ এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের খেদাবাগ এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা মো. খাইরুল ইসলাম ও ছাবেয়া বেওয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার কয়েকদিন পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ নূর নবী মিয়া মানববন্ধনে অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় আলম সাজ্জাদ, সুজা মিয়াসহ প্রায় ৯ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একটি চক্রের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে কিছু সময়ের জন্য রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীদের থানায় জানাতে হবে; অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 



























