মঙ্গলবার , ২২ জানুয়ারি ২০১৯ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. আইন ও অপরাধ
  2. আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আপনার স্বাস্থ্য
  5. ইতিহাসের এই দিনে
  6. উত্তরাঞ্চলের খবর
  7. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
  8. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরির খবর
  11. দেশ প্রতিদিন
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রতিদিনের কথা
  15. প্রতিদিনের রাশিফল

কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শুরু

প্রতিবেদক
admin2022
জানুয়ারি ২২, ২০১৯ ৫:১০ অপরাহ্ণ

আব্দুল মজিদ, (যশোর) কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা গতকাল ২২শে জানুয়ারী শুরু হয়েছে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫ তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এমেলায় লক্ষ-লক্ষ মানুষের উপস্থিতে মুখরিত হবে কপোতাক্ষ নদের তীর। মধুকবির জন্মভিটা আলোকিত হবে দেশের স্বনাম ধন্য কবি ,সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদচারনায়। ১৯৯৭ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ঘোষিত মধুপল্লী সাগরদাঁড়ি। এ অঞ্চলের সাধারন মানুষগুলো উৎসবের মধ্য দিয়ে মেতে উঠবে। কোন কবি বা সাহিত্যিকদের নিয়ে এত বড় জন্মবার্ষিকী উৎযাপন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ঊনবিংশ শতাব্দির বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরন সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্রিটিশ ভারতের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে এক সম্ভান্ত পরিবারে ১৮২৪ সালের ২৫ শে জানুয়ারি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল টিমোখি পেনপোয়েম। পিতার নাম রাজ নারায়ন দত্ত আর মাতা জাহ্নবী দেবী। পিতা ছিলেন কলকাতার দেওয়ানী আদালতের এক খ্যাতনামা উকিল। মধুসূদনের যখন ১৩ বছর বয়স সে সময় থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস করতেন। মধুসূদনের প্রথম শিক্ষা তাঁর মা জাহ্নবী দেবীর কাছে। তারপর তিনি পাশ্ববর্তী গ্রাম শেখপুরা মসজিদের ইমাম মুফতি লুৎফুল হকের কাছে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। মধুসূদন দত্ত যৌবনে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করেন। তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্যের দর্নিবার আকর্ষন বসত ইংরেজী ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু সেখানে খুব বেশি সফলতা না পাওয়ায় জীবনের দ্বিতীয় পর্বে নিজ ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং শুরু করেন নিজ মাতৃভাষায় সাহিত্য সাধনা চর্চা। তারপর তিনি বাংলার নবজাগরন সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি অমিত্রাক্ষর ছন্দের অবলম্বনে রচিত “মেঘনাদবধ কাব্য”। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো “দ্যা ক্যাপটিড লেডি” এ কাব্য। গ্রন্থটি তিনি রচনা করেন মাদ্রাসে বসে। এটি তার প্রথম কাব্য গ্রন্থ। কৃষ্ণকুমারী নাটক, পদ্মাবতী নাটক, একেই বলে কি সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরঙ্গনা কাব্য ,প্রহসন বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, হেক্টর বধ, চতুদর্শপদী কবিতাবলী ইত্যাদি। মহাকবি মাইকেলের ব্যাক্তিগত জীবন ছিল বেদনাঘন এবং নাটকীয়। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মাত্র ৪৯ বছর বযসে তিনি মারা যান। এবারের এ মেলা উদ্ভোধন করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, মেলায় আগত মধুভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চেতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলায় সার্কাস ,যাদু প্রদর্শনী, মৃত্যুকুপ, কুটির শিল্প, পুতুল নাছসহ থাকছে উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, পাশাপাশি ডিবি ও র‌্যাব সার্বক্ষনিক দায়িক্ত পালন করবেন।

সর্বশেষ - ফিচার