মঙ্গলবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. আইন ও অপরাধ
  2. আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আপনার স্বাস্থ্য
  5. ইতিহাসের এই দিনে
  6. উত্তরাঞ্চলের খবর
  7. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
  8. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরির খবর
  11. দেশ প্রতিদিন
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রতিদিনের কথা
  15. প্রতিদিনের রাশিফল

পার্বতীর স্তন থেকে উৎপন্ন নদীর নাম তিস্তা

প্রতিবেদক
admin2022
ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ ১:২২ অপরাহ্ণ

বিজয় ডেস্ক:  তিস্তা। বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তা সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার প্রধান নদী। একে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের জীবনরেখাও বলা হয়। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে এটি দেবী পার্বতীর স্তন থেকে উৎপন্ন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নদীটির বাংলা নাম তিস্তা এসেছে ‘ত্রি-স্রোতা’ বা ‘তিন প্রবাহ’ থেকে।

সিকিম হিমালয়ের ৭,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে এই নদীর সৃষ্টি। এটি দার্জিলিং-এ অবস্থিত শিভক গোলা নামে পরিচিত একটি গিরিসপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ে তিস্তা একটি বন্য নদী এবং এর উপত্যকা ঘন বনে আচ্ছাদিত। পার্বত্য এলাকা থেকে প্রথমে প্রবাহটি দার্জিলিং সমভূমিতে নেমে আসে এবং পরে পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) দুয়ার সমভূমিতে প্রবেশ করে। নদীটি নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অষ্টাদশ শতকের প্রায় শেষ সময় এই ধারাটি বিভিন্ন নদী প্রবাহের মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে প্রবাহিত হতো।

১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের অতিবৃষ্টি একটি ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করেছিল এবং সেই সময় নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে চিলমারী নদীবন্দরের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদে পতিত হয়। তিস্তা নদীর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ কি.মি, তার মধ্যে ১১৫ কি.মি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত। তিস্তা এক সময় করতোয়া নদীর মাধ্যমে গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং এর অংশবিশেষ এখনো বুড়ি তিস্তা নদী নামে পরিচিত।

তিস্তা নদীর উৎস উত্তর সিকিমের হিমালয় পর্বতমালার ৫,৩৩০ মি. (১৭,৪৮৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত সো লামো হ্রদে। হ্রদটি শেসচেনের কাছে ডোংখা গিরিপথের উত্তরে অবস্থিত।তিস্তা নদী ছাঙ্গু, ইউমথাং ও ডোংকিয়া লা পর্বতশ্রেণি থেকে উৎপন্ন ছোট ছোট নদীর জলে পুষ্ট। সিকিমের রংপো ও পশ্চিমবঙ্গের তিস্তাবাজার শহরের মাঝের অংশে তিস্তাই উভয় রাজ্যের সীমানা নির্দেশ করছে। তিস্তা সেতুর (যে সেতুটি দার্জিলিং ও কালিম্পং শহরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে) ঠিক আগে তিস্তা তার প্রধান উপনদী রঙ্গিতের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এখান থেকে তিস্তার গতি দক্ষিণমুখী। শিলিগুড়ি শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে করোনেশন সেতু পেরিয়ে তিস্তা পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। তারপর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলা ও বাংলাদেশের রংপুর জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তা মিশেছে ব্রহ্মপুত্রে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট

সর্বশেষ - ফিচার