রবিবার , ২৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. আইন ও অপরাধ
  2. আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আপনার স্বাস্থ্য
  5. ইতিহাসের এই দিনে
  6. উত্তরাঞ্চলের খবর
  7. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
  8. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরির খবর
  11. দেশ প্রতিদিন
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রতিদিনের কথা
  15. প্রতিদিনের রাশিফল

ঠাকুরগাঁও-১: লড়াই হবে আ.লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে

প্রতিবেদক
admin2022
নভেম্বর ২৫, ২০১৮ ২:৪২ অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁও: অবশেষে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহনে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছেন দলের হাইকমান্ড।
হেভিওয়েট প্রার্থীর একজন হলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি আর অন্যজন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের দখলে থাকলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়। এরপর ২০০৮ থেকে এই আসটি আবারো আওয়ামীলীগের দখলে চলে আসে।
৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় রমেশ চন্দ্র সেন মরিয়া আওয়ামীলীগ। অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান মির্জা ফখরুল।
রাজনৈতিক প্রোপট: ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে ভেঙে তিনটি জেলা করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের মাঝখানে ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬শ বর্গমাইল। জেলায় মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৫ ভাগ মুসলমান, হিন্দু শতকরা ২৪ ভাগ এবং খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন : সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৬২২ জন, নারী ভোটার ২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৬ জন পুরুষ ২ লক্ষ ১১ হাজার ৫২৬ জন।
নিবার্চনী পরিসংখ্যান: ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্রসেন নৌকা প্রতিক নিয়ে ৫৬ হাজার ৬ শ ৯০ ভোটের ব্যাবধানে ধানের শীষ ও প্রতিকে মির্জা ফখরুলকে পরাজিত করেন। নৌকা পায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ১শ ১ ভোট ধানের শীষ পায় ১ লাখ ২০ হাজার ৪ শ ১১ ভোট । এর আগে ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ৩৭ হাজার ৯ শ ৬২ ভোটে ব্যাবধানে আওয়ামীলীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে হারান। ধানের র্শীষ পায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯ শ ১০ ভোট আর নৌকা পাায় ৯৬ হাজার ৯ শ ৪৮ ভোট । এককভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরে আলম চৌধুরী ১৬ হাজার ৬ শ’ ৪৭ ভোট ।
১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে খাদেমুল ইসলাম পায় ৬২ হাজার ৭ শ ৯ ভোট। বিএনপি মির্জা ফখরুল ধানের র্শীষ প্রতীক নিয়ে পায় ৫৮ হাজার ৩ শ ৬৯ ভোট। ভোটের ব্যাবধান ৪ হাজার ৩ শ ৪০ ভোট । আলাদা নির্বাচন করে জামায়াতের রফিকুল পান ১৭ হাজার ২ শ ৪২ ভোট । তবে জামায়াতের সঙ্গে একত্রে হিসাব করলে আরও ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকেন মির্জা ফখরূল ।
১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে খাদেমুল ইসলাম পান ৫৭ হাজার ৫ শ ৩৫ ভোট । বিএনপি মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৩৬ হাজার ৪ শ ৬ ভোট। ভোটের ব্যাবধান ২১ হাজার ১ শ ২৯ ভোট। তবে আলাদা ভাবে নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পান ২৬ হাজার ৮ শ ভোট। আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী রেওয়ানুল হক ইদু চৌধুরী পান ২১ হাজার ৫০ ভোট।
বর্তমান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তৃতীয়বারের মতো এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত সময়ে পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনগণ ও দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, মন্দির-মসজিদ স্থাপনসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যা দৃশ্যমান। তিনি দাবি করেন, অন্য কোনো সরকার মতায় থাকা অবস্থায় এলাকায় এত উন্নয়নকাজ হয়নি। এসব কাজের সুফল এ জেলার মানুষ ভোগ করছে। সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রীর ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নের ল্যকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘আগামীতে আওয়ামী লীগ মতায় এলে শিা, সংস্কৃতি, কৃষি, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাসহ বর্তমান সরকারের অসমাপ্ত সব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে, যা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত জীবনে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, সারা জীবন মানুষের সেবা করেছি, আগামীতেও সেবা করে যেতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। বর্তমানে দলে কোনো বিভেদ নেই। দলকে পুনর্বিন্যাস, দলীয় বিভিন্ন সভাসহ বিগত দিনের ছোটখাটো কিছু ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর আসনে বিএনপি আগের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এর প্রমাণ মেলে পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে। দুটি নির্বাচনেই বিএনপি প্রার্থী মতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলের কারণে এমনটা হলেও নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম একাধিকবার এলাকায় আসেন। তাঁর এ আগমনই বিএনপি প্রার্থীর জয়ে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর রহমান বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। এখানে সব কিছুই নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলে। দলের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথার বাইরে যায় না। নেতাকর্মীরা একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান। তিনি একসময় জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ জেলার মানুষ তাঁকে অনেক সম্মান করে ও ভালোবাসে। তাই এ আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনিই বিএনপির একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপে হয় তবে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

সর্বশেষ - ফিচার