বুধবার , ১৮ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. আইন ও অপরাধ
  2. আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আপনার স্বাস্থ্য
  5. ইতিহাসের এই দিনে
  6. উত্তরাঞ্চলের খবর
  7. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
  8. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরির খবর
  11. দেশ প্রতিদিন
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রতিদিনের কথা
  15. প্রতিদিনের রাশিফল

শর্টকাট ‘বড়লোক’ হতে এ কী ভয়ঙ্কর কাণ্ড যুবকদের

প্রতিবেদক
admin2022
এপ্রিল ১৮, ২০১৮ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

বিজয় ডেস্ক: মিজানুর রহমান সায়ান (১১), রূপনগরের এমডিসি মডেল ইন্সটিটিউটের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। বাবা সাইদুর রহমান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। সায়ানের শখ বিদেশি বুলডগ প্রজাতির কুকুরের। আর এটাকেই কাজে লাগিয়ে শর্টকাট বড়লোক হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যায় দুর্বৃত্তের দল। সায়ানকে অপহরণ করে তার পিতার কাছ থেকে আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা। পরে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি বুলডগ কুকুর কিনে সেটিসহ সায়ানকে তার বাসায় ফেরত পাঠায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি উঠতি বয়সী এই তরুণদের। এরা সবাই এখন পুলিশের কব্জায়। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। এরা হলেন-মো. নাদিম (১৯), মো. আসিফ (১৯), মো. সজিব খান (২০) ও মো. নাইম হাওলাদার (২২)। এরা একে অপরের বন্ধু।

জানা যায়, গত ২৭ মার্চ বাসার কাছে মাঠে খেলা করছিল সায়ান। অপহরণকারী নাদিমরা সায়ানের শখের কুকুর সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সেই সূত্র ধরে বুলডগ প্রজাতির কুকুর কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাদিম তার বন্ধুদের নিয়ে অবুঝ সায়ানকে তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে সায়ানকে অক্ষত অবস্থায় মুক্তির বিনিময়ে ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরের দিন বিকালে ওই কুকুরসহ সায়ানকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার ২০ দিনের মাথায় সোমবার রাতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল অপহরণের সঙ্গে জড়িত ৪ দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার খন্দকার লুৎফুল কবির সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান সায়ানের চাচা সাইদুর রহমানের অফিসে ‘বয়’ হিসেবে কাজ করত নাদিম হোসেন। বছর দেড়েক আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরির সুবাদে সায়ানের পরিবার সম্পর্কে সে অবগত ছিল। প্রায় দুই মাস আগে নাদিম তার বন্ধু আসিফের কাছে পরামর্শ চায় কীভাবে শর্টকাট (সহজ উপায়ে) ‘বড়লোক’ হওয়া যায়। তখনই বিত্তশালী কোনো পরিবারের সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা পাকা করেন তারা। একপর্যায়ে তারা সায়ানকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সায়ানের বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নাঈম হাওলাদারের সঙ্গে এ ব্যাপারে পরামর্শ করে নাদিম। তখন নাঈম হাওলাদার নাদিমকে জানায়, বুলডগ প্রজাতির কুকুর পোষার শখ সায়ানের। প্রতিদিন বিকালে সায়ান বাইসাইকেল নিয়ে বাসার পাশের মাঠে খেলতে যেত। সন্ধ্যার আগে আগেই বাসায় ফিরত। গত ২৭ মার্চ সায়ান বাসা থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর নাদিম ও আসিফ কুকুর কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। সায়ানকে তারা অপর সহযোগী সজিব খানের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। এদিকে সন্ধ্যার পরও সায়ান না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরই মধ্যে সায়ানের বাবার নম্বরে ফোন আসে। বলা হয় সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে, তাকে অক্ষত পেতে হলে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। নতুবা তাকে মেরে ফেলা হবে। এ ব্যাপারে সায়ানের চাচা হাবিবুর রহমান ওইদিন রাতে রূপনগর থানায় মামলা করেন। এদিকে অপহরণকারী চক্র বারবার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়ে যান সায়ানের বাবা। ২৮ মার্চ সকালে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে তিনি মিরপুর ফ্লাইওভারে যান। দুর্বৃত্তদের কথা অনুযায়ী টাকার ব্যাগটি রাখা হয়। পরে সন্তান ফেরত চাইলে জবাবে বলা হয় সময় হলে জানতে পারবে। এরপর নাদিম কাঁটাবন থেকে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি বুলডগ প্রজাতির কুকুর ক্রয় করে। কুকুরটি সায়ানের হাতে দিয়ে তাকে বাসার পাশে এক জায়গায় ছেড়ে দেয় এবং তার বাবাকে ফোন করে সায়ানের লোকেশন জানিয়ে দেয়। এরপর তৎপর হয়ে ওঠে র‌্যাব। সোমবার রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং কয়েকটি দামি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।-যুগান্তর

সর্বশেষ - ফিচার