সোমবার , ১২ মার্চ ২০১৮ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. আইন ও অপরাধ
  2. আজকের আবহাওয়া পূর্বাভাস
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আপনার স্বাস্থ্য
  5. ইতিহাসের এই দিনে
  6. উত্তরাঞ্চলের খবর
  7. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
  8. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  9. খেলাধুলা
  10. চাকরির খবর
  11. দেশ প্রতিদিন
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রতিদিনের কথা
  15. প্রতিদিনের রাশিফল

আগামী মাসেই কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ শুরু

প্রতিবেদক
admin2022
মার্চ ১২, ২০১৮ ৪:২৭ অপরাহ্ণ

বিজয় ডেস্ক: আগামী মাসেই বন্দর নগরীতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুল আলোচিত টানেল নির্মাণের মূল কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অবহেলিত দক্ষিণ চট্টগ্রামকে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনার লক্ষ্যে গৃহীত প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার এই টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চীনা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের থাকার ঘর থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ পর্যায়ে।
আগামী আগস্ট মাসে ‘ওয়ার্কিং শাফট’ এর মাধ্যমে টানেল নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। টানেল নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে দুই মেগাওয়াট বিদ্যুতের সংস্থান করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ১৫ মেগাওয়াটের আলাদা একটি সাবস্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসা এবং পর্যটন, আবাসন, শিল্পায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টানেল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এটি দেশের প্রথম টানেল। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ থেকে ৩৫ মিটার বা প্রায় ১১৫ ফুট নিচ দিয়ে এই টানেল নির্মাণ করা হবে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এতে ৮০০ মিটারের একটি ব্রিজসহ ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার এ্যাপ্রোচ রোড থাকবে বলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। টানেলে গাড়ি চলাচলের লেন হবে চারটি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, শুরুতে টানেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়ার প্রস্তাব করা হয় এক হাজার ৪৬০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছিল চার হাজার ১৪০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৫ সালের মার্চে নতুন করে প্রকল্প ব্যয় সাত হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত দুই হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেয়ারও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পটির ব্যয় আরো বৃদ্ধি পায়। ব্যয় নির্ধারণ করা হয় আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন তিন হাজার ৬৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ ধরা হয় চার হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিও (একনেক) এই ব্যয় অনুমোদন করে।
২০১৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত প্রকল্পটি গত বছরের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। ওইদিনই চীনা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিম ব্যাংক অব চীনের সঙ্গে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের একটি ঋণচুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। গত বছর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পর থেকে কাজ চলছে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে শুরুতে কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়।
২০২০ সালের মধ্যে টানেল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে চীনা প্রকৌশলীসহ টানেল নির্মাণের সাথে জড়িতদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘর এবং অফিসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে দুই মেগাওয়াট বিদ্যুতের সংস্থান করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ১৫ মেগাওয়াটের একটি সাবস্টেশন স্থাপিত হবে। এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসে ওয়ার্কিং শাপ্ট-এর মাধ্যমে মুল টানেল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার কবির বলেন, শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগও হয়ে যাবে। কোন সমস্যা নেই।

সর্বশেষ - ফিচার