ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২য় শ্রেণীর ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা

  • নিউজ বিজয় ডেস্ক :-
  • প্রকাশিত সময় :- ০৪:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২
  • ৩৯৪ পড়া হয়েছে। নিউজবিজয় ২৪.কম-১৫ ডিসেম্বরে ৯ বছরে পর্দাপন

শিশু তিশাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিশা আক্তার টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মো. আবু ভূইয়ার মেয়ে ও শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন জানান, তিশা আক্তারের নাচ দেখে তার বাড়ির আশে পাশের গোবিন্দ মন্ডল, চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল ও বিজয় সরকার আকৃষ্ট হয়। বিকৃত যৌন লালসা তাদের মনে পোষণ করে তিশাকে বিভিন্ন সময় নানা কায়দায় উত্যক্ত করতো। দুই মাস আগে তিশা তার মা সম্পা বেগমের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। কিন্তু আসামীরা বখাটে ও প্রভাবশালী হওয়ায় সম্পা তাদের তেমন কিছু বলেননি। তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করত। গত ২৬ মে আসামীরা জানতে পারেন তিশাকে বাড়িতে একা রেখে তার মা তার ছেলে শুভর স্কুল ছুটির পর তাকে এগিয়ে আনতে যায়। পরে আসামীরা তিশার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার মার ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে তিশাকে। তার মা বাড়িতে এসে তিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। স্থানীয় তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পুলিশ সুপার আরও জানান, তার বহনকৃত অ্যাম্বুলেন্স গাজীপুর পর্যন্ত গিয়ে নষ্ট হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে তিশার মৃত্যু হয়। ওই দিনই বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার লাশটি ময়না তদন্ত করা হয়। ৪ জুন ময়না তদন্তের রির্পোটে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওই দিনই তিশার বাবা আবু ভূইয়া বাদি হয়ে বাসাইল থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই উদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের গ্রেপ্তার করে। আসামীরা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। জবানবন্দি না দিলে মামলা তদন্তের স্বার্থে আদালতের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে যারা অমানবিকভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করছি। যাতে পরে আর কোন মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।
নিউজ বিজয়/নজরুল

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

২য় শ্রেণীর ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা

প্রকাশিত সময় :- ০৪:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২

টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিশা আক্তার টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মো. আবু ভূইয়ার মেয়ে ও শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমিন জানান, তিশা আক্তারের নাচ দেখে তার বাড়ির আশে পাশের গোবিন্দ মন্ডল, চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল ও বিজয় সরকার আকৃষ্ট হয়। বিকৃত যৌন লালসা তাদের মনে পোষণ করে তিশাকে বিভিন্ন সময় নানা কায়দায় উত্যক্ত করতো। দুই মাস আগে তিশা তার মা সম্পা বেগমের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। কিন্তু আসামীরা বখাটে ও প্রভাবশালী হওয়ায় সম্পা তাদের তেমন কিছু বলেননি। তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করত। গত ২৬ মে আসামীরা জানতে পারেন তিশাকে বাড়িতে একা রেখে তার মা তার ছেলে শুভর স্কুল ছুটির পর তাকে এগিয়ে আনতে যায়। পরে আসামীরা তিশার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার মার ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে তিশাকে। তার মা বাড়িতে এসে তিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে। স্থানীয় তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পুলিশ সুপার আরও জানান, তার বহনকৃত অ্যাম্বুলেন্স গাজীপুর পর্যন্ত গিয়ে নষ্ট হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে তিশার মৃত্যু হয়। ওই দিনই বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার লাশটি ময়না তদন্ত করা হয়। ৪ জুন ময়না তদন্তের রির্পোটে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওই দিনই তিশার বাবা আবু ভূইয়া বাদি হয়ে বাসাইল থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই উদ্যোগে তদন্তের জন্য গ্রহণ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের গ্রেপ্তার করে। আসামীরা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। জবানবন্দি না দিলে মামলা তদন্তের স্বার্থে আদালতের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে যারা অমানবিকভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করছি। যাতে পরে আর কোন মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।
নিউজ বিজয়/নজরুল